দুই বছরেও শুরু হয়নি সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কাজ। দেড় বছর আগে মামলাটি বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা কার্যকরে কোন ব্যবস্থা নেয়নি জেলা প্রশাসন।
মামলায় অভিযুক্তদের সবাই ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী হওয়ায় শুরু থেকেই বিচার প্রক্রিয়া ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা। একই সঙ্গে মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
দেশ জুড়ে আলোচনা তৈরি করা এ ঘটনায় অল্পদিনেই গ্রেপ্তার হন অভিযুক্ত ৮ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী। ডিএনএ টেস্টে তাদের সবার সম্পৃক্ততার প্রমাণও উঠে আসে তদন্ত প্রতিবেদনে। কিন্তু অজানা কারণে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি বছরের পর বছর পড়ে আছে বিচারের অপেক্ষায়।
বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী এডভোকেট শাহিদুজ্জামান জানান, জণরোষ ও গণমাধ্যমের চাপে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলেও শুরু থেকেই তাদেরকে আইনের ফাঁক-গলে বাঁচানোর জন্য নানামুখী চক্রান্ত চলছে।
তিনি বলেন, অব্যাহত দাবির প্রেক্ষিতে গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলার জেলা মনিটরিং কমিটি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেই সিদ্ধান্ত আলোর মুখ দেখেনি দেড় বছরেও।
মামলাটির বিচারিক আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রায় চার হাজার মামলার ভারে ন্যুব্জ। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালটি বেশ ক’বছর ধরেই প্রায় মামলাশুন্য। ফলে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন আইনজীবীরা।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার বিভাগীয় প্রতিনিধি সৈয়দ আকরাম আল শাহান, দুই বছর ধরে বিচার শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া মামলার বাদি মাইদুল ইসলাম যেন অনেকটাই আসা ছেড়ে দিয়েছেন!
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বামীকে নিয়ে প্রাইভেট কারযোগে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে যান ওই গৃহবধূ। এসময় তাকে জোরপূর্বক ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের ৮ নেতা-কর্মী।
ঘটনার পরদিন ওই নারীর স্বামী শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগকর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ওই ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রতিবাদে সরব হয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও অধিকার সংগঠন।
আরও পড়ুন: মদ উদ্ধার, চেয়ারম্যান ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে র্যাবের মামলা
তদন্তে নেমে মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আটজনের সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
ডিএনএ পরীক্ষাতেও আসামিদের নমুনার সাথে ঘটনাস্থলের ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া যায়।
একাত্তর/আরএ