বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের উপ-নির্বাচন স্থগিত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর-তাতেরকাঠী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহন প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেয়া এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাত্তর টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত এবং ভাইরাল হওয়ায় নির্বাচনটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার খান আবি শাহানুর খান। আগামী ২৭ জুলাই পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর তাঁতেরকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল।

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইভিএম এ ভোট গ্রহন নিয়ে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা জোবায়দুল হক রাসেলের একটি বিতর্কিত বক্তব্য রোববার সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। 

গত শনিবার সন্ধ্যায় তাঁতেরকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকার একটি উঠান বৈঠকে জোবায়দুল হক রাসেল ওই বক্তব্য দেন। ওই সময় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইব্রাহিম ফারুক তার পাশে বসা ছিলেন।

ফেইসবুকের ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও বক্তব্যে দেখা যায় জোবায়দুল হক রাসেল বলেন, ‘ভোট হবে ইভিএম-এ, কে কোথায় ভোট দেবে তা কিন্তু আমাদের কাছে চলে আসবে। অতএব ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই, টেনশনেরও কিছু নাই।’ 

আওয়ামী লীগ নেতার এমন বক্তব্য নিয়ে সব মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিব্রতবোধ করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরাও।

এর আগে নাজিপুর তাতেরকাঠী ইউনিয়নের সুলতানাবাদের একটি উঠান বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তালুকদার মো. জাহাঙ্গীরও একটি বির্কিত বক্তৃতা দেন সেখানে তিনি বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের দল বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে। যেহেতু বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে, তাহলে আপনি যদি সেই দলের সমর্থক হন, তাহলে আপনিওতো নির্বাচন বর্জন করেছেন। আর যদি মনে করেন নৌকা প্রতীকে আদৌ ভোট দিবেন না, ইব্রাহিম ফারুককে হারাতে হবে, নৌকাকে ঠেকাতে হবে। তাহলে আমিও কিন্তু একটা কথা আপনাদের পরিষ্কার বলে রাখি, সময় আছে মাত্র তিন-চারদিন। পরিষ্কার ভাষায় এ কথা বলতে চাই যে সব বন্ধুরা নৌকায় ভোট দিবেন না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন, তারা অনুগ্রহপূর্বক আপনার দল নির্বাচন বর্জন করেছে, আপনিও নির্বাচন বর্জন করেছেন, আপনাকে কিন্তু আমরা ভোটের দিন কাছাকাছি দেখতে চাই না।’

পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার খান আবি শাহানুর খান বলেন,‘ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ নিয়ে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। এ কারনে কমিশন নির্বাচন স্থগিত করেছে। 


একাত্তর/এআর