সিলেট সদর উপজেলার বড়শালা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় দুই পরিবারের আট সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার সকালে স্থানীয়রা অজ্ঞান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদের মধ্যে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুজনের জ্ঞান ফেরেনি।
স্থানীয়রা জানান, সিলেট ক্লাবের পেছনের একটি বাড়ির বেশ কয়েকজন বাসিন্দা অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিলেন। সকালে তাদের পরিবারের দুজন এসে স্থানীয়দের ডাকাডাকি করলে তারা অসুস্থদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলেন- সুহানুর রহমান সাগর, নিগার সুলতানা, মাজেদা বেগম, সুভাষ চন্দ্র দে, শ্রীভাষ চন্দ্র দে, সুজন দে, শিবানী চন্দ্র দে ও গৌরী রানি দে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিগার সুলতানা জানান, সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের পাশে টিনশেডের একটি একতলা বাসায় তারা দুই পরিবার বাস করেন।
শুক্রবার রাতে দুই পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরের দিকে তাদের চোখে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। বমিও হয় কয়েকবার।
তবে তার ভাই সাহেদ আহমদ রাতে অন্যত্র খেয়ে আসায় বাসায় খাবার খাননি। সাহেদ প্রায় পুরো রাতই জেগে ছিলেন।
এ সময় তার ভাই এসে দেখেন, রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কাটা। এছাড়া খাবারের পাত্রগুলোতেও সাদা রঙ এর পাউডার ছিটানো।
এর আগে গত ২৬ জুলাই ওসমানী নগরের একটি বাসা থেকে প্রবাসী পরিবারের পাঁচ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান দুজন। এরপর ৬ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো একজন।
আরও পড়ুন: দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত
ঘটনা সম্পর্কে সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ওসি মাইনুল জাকির বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, চুরির উদ্দেশে চোরেরাই এমনটি করেছে। আমরা কিছু আলামত জব্দ করেছি। তবে তদন্তের আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না।
এর আগে গত ২৬ জুলাই ওসমানী নগর উপজেলার গোয়ালাবাজারের একটি বাসা থেকে প্রবাসী পরিবারের পাঁচ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
হাসপাতালে নেয়ার পর ওই দিনই মারা যান প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম। এরপর ৬ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রফিকুলের মেয়ে সামিরা ইসলামও। এই মৃত্যু ও অসুস্থতার রহস্যও এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
একাত্তর/এসজে