দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবি টানা ১১ দিন আন্দোলনের পর তা প্রত্যাহার করেছেন চা শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তারা এই আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল জানিয়েছেন, শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামীকাল রোববার থেকে তারা কাজে যোগ দেবেন।
এর আগে শনিবার (২০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শ্রম দপ্তরের বিভাগীয় অফিসে এ সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, জেলা প্রশাসকের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজীব মাহমুদ মিটুন।
এ সময় চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পালসহ চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: এক বুক আশা নিয়ে অপেক্ষায় নিখোঁজ জেলেদের স্বজনরা
সভায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহবান জানান।
পরে সভায় শ্রমিকদের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল আগামীকাল থেকে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতী প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের বৈঠক হয়। সেখানে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দেন শ্রমিক নেতারা।
কিন্তু মালিকপক্ষ ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩৪ টাকা মজুরির প্রস্তাব দেয়। যে কারণে শ্রমিক নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর আরও এক মাস পেরিয়ে যায়, মালিকপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এর প্রতিবাদে ৯ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত টানা চার দিন প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে ধর্মঘট পালন করা হয়। তারপরও মালিকপক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কথা না বলায় ১৩ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের সব চা বাগানে একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা।
একাত্তর/এসি