কুমিল্লায় এক নারীকে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগে মেঘনা থানার অফিসার ইনচার্জ ও উপ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালত সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -৩ এ মামলাটি দায়ের করেন ওই নারী।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা হলেন- মেঘনা থানার ওসি ছমির উদ্দিন ও এসআই মো. মোশাররফ হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মেঘনা থানার শিকিরগাও এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কয়েকবার থানায় আসা যাওয়া করেন। অভিযোগ, থানার ওসি ও এসআই তাকে প্রায়ই ফোন করতেন। এক পর্যায়ে ওসি তাকে মেঘনা রিসোর্টে সময় কাটানোর যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং এসআই প্রায়ই ফোন করে তাকে অশোভন প্রস্তাব দিচ্ছিলেন।
গত ২৬ আগস্ট এক ঘটনায় ওই নারীর বোনের জামাইকে গ্রেপ্তার করতে যায় ওসি ছমির ও এসআই মোশাররফ। সেদিন ওই নারী মামলার ওয়ারেন্ট চাওয়াতে এসআই মোশাররফ তাকে থানায় নিয়ে আসেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসআই মোশাররফ অন্য পুলিশদের সহায়তায় তাকে ওসির রুমে নিয়ে যান এবং রুমের দরজা বন্ধ করে অশোভন আচরণ এবং নির্যাতন করেন।
পরে ২৭ আগস্ট সকালে ওসি ও এসআই আবার তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এরপর তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ তুলে একটি মামলা দায়ের করে কোর্টে চালান করে দেওয়া হয়। পরে আটদিন জেলে থাকার পর তিনি জামিনে এসে মামলার প্রস্তুতি নেন এবং মামলাটি দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ওসি ছমির উদ্দিন বলেন, ওই নারী ভীষণ উগ্র। আমরা আসামি গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি আনতে দেননি। পরে আমরা তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধায় দেয়ায় মামলা দায়ের করি। এরপর তিনি জেল থেকে বের হয়ে এসব করছেন। এসব বানোয়াট।
আরও পড়ুন: শ্বশুরবাড়িতে ডেকে এনে স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তন
এসআই মোশাররফ বলেন, তিনি কী করেছেন তার ভিডিও রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। আমরা তাকে নারী কনস্টেবল দিয়ে ধরিয়ে এনেছি। মামলার বিষয়গুলো তার বানানো।
এ ব্যাপারে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, বিষয়টি জেনেছি। আদালত থেকে এখনও মামলার কোনো কাগজপত্র পাইনি। কোর্ট ইন্সপেক্টরের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একাত্তর/এসি