নেত্রকোণার দূর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদী থেকে একটি বিলুপ্ত প্রজাতির মেছো বিড়াল উদ্ধার করেছে এলাকার মানুষ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের রানীখং এ নদীর পাড় থেকে বিড়ালটি উদ্ধার করেন কয়লা শ্রমিক আব্দুল লতিফ।
বিড়ালের শরীরের কালো দাগ দেখে এটিকে বাঘ ছানা ভাবেন তিনি। পরে ঘটনা জানাজানি হলে সেটিকে দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন।
প্রাণীটিকে বিড়াল ছানা মনে করলেও শরীরের কালো দাগ দেখে অনেকেই সেটিকে বাঘের ছানা ভাবতে শুরু করের।
তবে প্রাণী সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেন এটি মেছো বিড়াল। পরে প্রাণীটি অসুস্থ থাকায় প্রাথমিক পরিচর্যার জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব উল আহসান জানান, প্রাণীটিকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর পরই বন বিভাগকে খবর দেয়া হয়, যাতে সুস্থভাবেই প্রাণীটিকে বনে অবমুক্ত করা যায়।
এলাকাবাসীর ধারণা, ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের জঙ্গল থেকে পরিবারের সাথে পানি খেতে নেমে স্রোতের টানে প্রাণীটি ভেসে এসেছে।
মেছো বিড়াল মাঝারি আকারের বিড়াল গোত্রীয় এক ধরনের স্তন্যপায়ী বন্যপ্রাণী। লাতিন আমেরিকার ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এদের আবাসস্থল।
বিগত কয়েক দশকে মোছো বিড়ালের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। জনবসতি, কৃষি জমি কমে যাওয়াসহ অন্যান্য কারণে প্রাণীটির আবাসস্থল জলাভূমিগুলো দিন দিন সংকুচিত ও হ্রাস পাওয়াই এর মূল কারণ। তাই ২০০৮ সালে এ জাতীয় প্রাণীকে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশেও বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
মেছো বিড়াল সাধারণত নদীর ধারে, পাহাড়ি ছড়া এবং জলাভূমিতে বাস করে। এরা সাঁতারে পারদর্শী হওয়ায় এ ধরনের পরিবেশে সহজেই খাপ খাওয়াতে পারে। এদের গায়ে ছোপ ছোপ চিহ্ন থাকার জন্য চিতাবাঘ বলেও ভুল করা হয়।
একাত্তর/এসএ