উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস এক নির্মম বাস্তবতা। এবারের ঘূর্ণিঝড় ইয়াসও তার ব্যতিক্রম নয়।
ইয়াসের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যখন ক্ষয়ক্ষতির খবর আসা শুরু হয়েছে, তখনই বাগেরহাট জেলার মোরলগঞ্জ উপজেলা থেকে আসে বেদনাদায়ক খবরটি।
বুধবার (২৬ মে) সকালে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে সৃষ্ট জোয়ারে ভেসে যায় ৪ বছরের শিশুকন্যা জিনিয়া। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশিরা ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই হন্যে হয় খোঁজে জিনিয়াকে। কিন্তু কোথাও নেই জিনিয়া!
অবশেষে জোয়ারের পানি কমলে তিন ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয় জিনিয়াকে। তবে এ জিনিয়া চার বছরের দুরন্ত-প্রাণোচ্ছল জিনিয়া নয়। উদ্ধার হয় জিনিয়ার মরদেহ।
আজ সকাল ১০টায় উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিনিয়া গ্রামের কামাল গাজীর মেয়ে।
এবিষয়ে খাউনিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, দুপুর একটার দিকে জিনিয়াকে উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিনিয়াকে মৃত ঘোষণা করে।
প্রতিবার ঘূর্ণিঝড় বাসা-বাড়ি, ফসল, গবাদি পশু কেড়ে নিলেও মানুষ নতুন উদ্যমে আবার তা নির্মাণ করে জীবনের বীজ বোনে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ে জিনিয়ার মতো হারানো স্বজনদের আর কোনকিছুর বিনিময়েই ফিরে পাওয়া যায় না।
একাত্তর/আরএইচ