নীলফামারী ঘুরে গেলেন পায়ে হেঁটে বিশ্ব ভ্রমণে বের হওয়া নেপালি যুবক ইহ (২৭)। মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সকালে নীলফামারী থেকে তিনি পায়ে হেঁটে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। এই জেলা ছেড়ে যাবার আগে তিনি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে বাংলাদেশে আসার অভিজ্ঞতা।
ইহ বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ ভূমি সমতল, এখানে উৎপাদনশীলতা বেশি। কৃষিতে ব্যাপক আধুনিকায়ন হয়েছে, মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হয়েছে, এখানকার মানুষ অনেক বেশি অতিথি পরায়ণ।
তিনি বলেন, প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে সড়ক দুর্ঘটনার খবর। এটা আমাকে অনেক ব্যথিত করেছে। এ সমস্যা দূর করা জরুরি। তার জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
ইহ বলেন, পথে পথে সবুজ ফসলের মাঠ দেখে আমার অনেক ভালো লেগেছে। চলার পথে গ্রামের অনেক হাট-বাজারে ঘুরেছি, অনেকে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। মাঠে কাজ করা কৃষকরাও মাঠে কাজ ফেলে হাসিমুখে আমার সঙ্গে কথা বলছেন। স্থানীয় লোকজনই আমার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। আপনাদের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মানুষের আতিথেয়তা অনেক বেশি। এই অঞ্চলের মানুষ খুব সহজ সরল জীবন যাপন করেন। এখানকার সংস্কৃতি বেশ আকর্ষণীয়।
আলাপে জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সমগ্র নেপাল পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেছিলেন তিনি। ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের কারগিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে সারা ভারত ভ্রমণ শেষ করেন। সেখানে এক মাস বিশ্রাম শেষে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেন। এর পর বাংলাদেশে আসেন তিনি।
পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং নানা দেশের মানুষের কৃষ্টি-কালচার ও সংস্কৃতি জানার আগ্রহ থেকেই তার এই ভ্রমণ। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি কাঠমুন্ডু বিমান বন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় আসেন। ঢাকা থেকে সড়ক পথে বাস যোগে তিনি টেকনাফের শাহপরী দ্বীপ যান। সেখান থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পায়ে হেঁটে বাংলাদেশ ভ্রমণ শুরু করেন। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি নীলফামারী জেলা শহরে আসেন। এরপর মঙ্গলবার ১৮ অক্টোবর সকালে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে পায়ে হেঁটে রওয়ানা হন জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে।
ইহ’র বাড়ি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর থাপাথালি এলাকায়। পায়ে হেঁটে নেপাল-ভারত-শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এই ভ্রমণে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে শুরু করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাবেন ইহ। ওই পথে বাংলাবান্ধা সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করবেন।
আরও পড়ুন: একদিন পরই ডেঙ্গুর নতুন রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু তিন
বাংলাদেশে টাঙ্গাইল থেকে তার সঙ্গে যোগ দেন আলোকচিত্রি ও লেখক হোমায়েদ ইসহাক মুন। তিনি তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সঙ্গ দিবেন তাকে। নীলফামারীতে তার সঙ্গে যোগ দেন নীলফামারী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. নুরুল করিমসহ কয়েকজন যুবক।
আলোকচিত্রি ও লেখক হোমায়েদ ইসহাক মুন বলেন, কয়েক বছর আগে এভারেস্ট পর্বতের বেজক্যাম্পে গিয়ে ইহ’র সঙ্গে আমার পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়। সে সুবাদে আমি তার সফর সঙ্গী হয়েছি।
একাত্তর/এসি