জয়পুরহাটে মৃত ব্যক্তির নামে ঋণ দিয়েছে সোনালী ব্যাংক। খেলাপি ঋণের
নোটিশ পেয়ে এখন দিশেহারা মৃত ব্যক্তির পরিবার। এলাকাবাসি বলছে, অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের
যোগসাজশে কাগজপত্র জালিয়াতি করে মৃত ব্যক্তির নামে ঋণ তুলেছে জালিয়াত চক্র।
সোনালী ব্যাংকের নোটিশ পেয়েছেন ক্ষেতলাল উপজেলার নরেশ চন্দ্রের পরিবার। নোটিশে বলা হয়েছে, ১৭ বছর আগে ব্যাংক থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শোধ না করায় খেলাপি হয়েছেন তার বাবা পরেশ চন্দ্র।
এই নোটিশ পেয়ে হতভম্ব ও দিশেহারা নরেশ চন্দ্র। নোটিশে বলা হয়েছে ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর তার বাবা ঋণ গ্রহণ করেছেন! অথচ তার বাবা পরেশ চন্দ্র ২৮ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন মারা গেছেন।
নরেশ চন্দ্র বলেন, ১০ হাজার টাকা বড় নয়। আমার বাবা মৃত্যুর ১১ বছর পর কীভাবে ব্যাংকে গিয়ে ঋণ গ্রহণ করলেন, তাতে আমরা আশ্চর্য হয়েছি। মৃত্যুর পর আমার বাবা জীবিত হয়ে আবার ফিরে এসেছিলেন, সেটা সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তারা ছাড়া আর অন্য কেউ দেখেননি।
এমন অদ্ভুত চিঠি পেয়ে নরেশ সোনালী ব্যাংকের ক্ষেতলাল শাখায় গেলে ব্যাংকের কর্মকর্তারা নথিপত্র ঘেঁটে জানান, ঋণ গ্রহণের তারিখ ঠিক আছে। এ সময় নরেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বলেন, তার বাবা ২৮ বছর আগে মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা, শীতের আগমনী বার্তা
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নোটিশটি ভুলবশত দেয়া হয়েছে। মৃত পরেশের কাগজপত্র জালিয়াতি করে তার নামে ঋণ তুলে নিয়েছে অন্য কেউ। তদন্ত করে বের করা হবে ঋণ নেয়ার আসল ঘটনা। তবে সেই জালিয়াতের শাস্তি চেয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
সোনালী ব্যাংক ক্ষেতলাল শাখার ব্যবস্থাপক সিনিয়র প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, ব্যাংকের ঋণ নথিতে দেখা গেছে, পরেশ চন্দ্র ২০০৫ সালে কাগজপত্র ও সই দিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। ঋণটি পরিশোধ হয়নি। তাই ঋণের টাকা চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস