উপকূলে কয়েক হাজার মানুষের প্রধান জীবিকা শুটকি উৎপাদন। দুবলারচরে ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া শুটকির মৌসুম চলবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এ বছর শুটকির মৌসুমের শুরুতেই সাগর আর নদীতে জাল ফেললেই ধরা পরছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ। বর্তমানে উপকূলের মানুষ মাছ শুকানো এবং অস্থায়ী ঘর বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বঙ্গোপসাগরের মোহনায় সুন্দরবনের দুবলারচরে এই মুহূর্তে মাছ শুকানো হচ্ছে। এরিমধ্যে দুবলারচরে ১০ সহস্রাধিক জেলে পৌঁছে গেছেন। এবছর শুটকি মৌসুমে পাঁচ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হবে বলে সুন্দরবন বন বিভাগ আশা করছে।
সুন্দরবন বিভাগ বলছে, জেলেরা অস্থায়ী ঘর নির্মাণ ও মাছ শুকানো বা ধরার কাজে সুন্দরবনের কোনো বনজদ্রব্য ব্যবহার করতে পারবে না। একই সঙ্গে দুবলারচরে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এছাড়া জোর করে কাউকে দিয়ে কাজ করানো হলে বহরদারদ্দের (জেলে মহাজন) পাশ বাতিল করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুটকি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ মৌসুমকে ঘিরে হাজার হাজার জেলের সমাগম ঘটে দুবলারচরে। সেখানে বিভিন্ন সময় নানাভাবে জেলে-মাঝিরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসা করানোর মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা শুটকি মৌসুমে দুবলারচরে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
দুবলারচরের জেলেরা জানান, সাগর এবং নদীতে জাল ফেলইে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পরছে। বিগত বছরের তুলনায় এবছর মৌসুমের শুরুতেই বেশি মাছ ধরা পরছে। তারা মাছ কাটা-বাছা ও শুকানোর কাছে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাছ বেশি ধরা পড়ায় এবার বেশি লাভের আশা করছেন তারা।
জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলাধীন দুবলারচরের অধীনে বিভিন্ন নামে পাঁচটি চর রয়েছে। এসব চরগুলো হচ্ছে- আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, মেহেরআলী, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলারচর। সুন্দরবন বিভাগ থেকে পাশ নিয়ে জেলেরা ওই সব চরে গিয়ে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে। এর পর জেলেরা সাগর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে ওই চরগুলোতে নিয়ে আসে। চরগুলোতে মাছকাটা, বাছা ও শুকানোর কাজ চলবে মৌসুম জুড়ে। প্রতিবছর ওই চরে শুটকি মৌসুমে কয়েক হাজার জেলের সমাগম ঘটে।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ভোট কেন্দ্রের সামনে থেকে অস্ত্রসহ যুবক আটক
বন বিভাগ জানায়, এবছর শুটকি মৌসুমে একহাজার ৩০টি জেলে ঘর (অস্থায়ী ভাবে থাকার ঘর), ৬৩টি ডিপোঘর (মাছ রাখার ঘর), ১৫ জন বহরদ্দার (জেলে মহাজন) এবং ৯৬টি অস্থায়ী দোকান ঘর তৈরি করার পাশ দেওয়া হয়েছে। এসব বহরদ্দারদের মাধ্যমে ১০ সহস্রাধিক জেলে দুবলারচরে গেছে।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা সমুদ্রগামী মৎস্যজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের জানান, ৫৫ জন জেলেকে নিয়ে শনিবার দুবলার চরে পৌঁছেছেন। চরের বিভিন্ন এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ অস্থায়ী ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ঘর নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি।
তিনি আরও জানান, শুটকি মৌসুমকে ঘিরে দুবলারচরে প্রায় ১৫ হাজার জেলে ও মহাজন চার মাস অবস্থান করবে। এখানে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প করার দাবি জানিয়ে আসা হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
দুবলারচর জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ মজুমদার জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবছর মৌসুমের শুরুতে সাগর এবং নদীতে বেশি পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বেশি মাছ ধরা পরায় জেলেরাও খুশি। দুবলারচর, শেলারচর, মাঝেরকেল্লা ও নারিকেলবাড়িয়া চরে এই মুহূর্তে জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছে। ১০ সহস্রাধিক জেলে ও তাদের মহাজন অবস্থান নিয়েছে এসব চরে। বন বিভাগের সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বন বিভাগ থেকে পাশ নিয়ে জেলে ও তাদের মহাজনরা দুবলারচরে গেছে। মাছ ধরা, কাটা-বাছা এবং শুকানো হবে ওই চরে। বন বিভাগের নিয়ম মেনে জেলেদেরকে মাছ শুকাতে হবে। নিময় ভঙ্গ করলে জেলেবহরদ্দারের অনুমতি বাতিল করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। গত বছর দুবলারচর থেকে ৬৫ হাজার কুইন্টাল শুটকি মাছ থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এবছর পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে বলে ডিএফও আশা করছে।
একাত্তর/এসি