সুস্বাদু আর মিষ্টি লিচুর জন্য নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা। জেলার প্রায়
চারভাগের তিনভাগ লিচু এই উপজেলায় উৎপাদন হয়। প্রতি বছরের মতো এবারো এই লিচুর চাহিদা
তুঙ্গে।
চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে নাটোরের গুরুদাসপুরের লিচু। এরই মধ্যে সারাদেশের ব্যবসায়ীরা ভিড় করেছেন সেখানে। বাগাস ঘুরে ঘুরে কিনছেন লিচু।
বাগান মালিকরা বলছেন, করোনা সতর্কতার কারণে এবার লিচুর বাজারের চেয়ে বাগানে ক্রেতা বেশি। এ কারণে দামও ভালো পাচ্ছেন তারা।
গুরুাসপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে শত শত লিচু গাছ। বাগানে বাগানে রসালো আর মনকাড়া রঙের লোভনীয় মধুফল লিচু ঝুলছে গাছে গাছে। ভরে নুয়ে পড়েছে ডাল।
উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর, মাহমুদপুর, মোল্লাবাজার, হামলাইকোলসহ বিভিন্ন গ্রামের বাগানে এখন শুধু ব্যবসায়ীদের আনাগোনা।
সতর্ক বাগান মালিকরাও। তারাও বাজারে না গিয়ে বাগান থেকে লিচু বিক্রির ব্যপারে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে করে ফরিয়াদের হাত থেকেও বেঁচে যাচ্ছেন তারা।
কেউ কেউ যে বাজারে নিচ্ছেন না তাও নয়। বেড়গঙ্গারামপুরের আড়তেও বেচাকেনা হচ্ছে। এই শতকের শুরুতে সেখানের কানু মোল্লার বটতলায় গড়ে উঠে লিচু হাট।
এই হাট থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক লিচু চলে যায় দেশের বিভিন্ন জেলায়। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা ভিড় জমিয়েছেন সেখানে।
তবে আড়তদাররা বলছেন, এবার লিচুর বজার বেশি বসেছে রাস্তার উপর। নির্দিষ্ট যায়গা না থাকায় ক্রেতা বিক্রেতা সবাই বিপাকে পড়ছেন।
এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন বলছেন, এবার ফলন কম হলেও দাম বেশি হওয়ায় লোকসান হবে না বাগানিদের।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার ৪১০ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠা ৫০০ বাগানে লিচুর আবাদ হয়েছে। এবার লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯০ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।