নওগাঁয় সতর্কতা: পুলিশের চেকপোস্ট, সীমান্তে নজরদারি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলায় করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় নওগাঁতে হঠাৎ করে করোনার ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একদিনে এ জেলায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এরই প্রেক্ষিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলার সাথে নওগাঁর সংযোগ সড়কগুলোতে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ভারতের সাথে জেলার সীমান্তেও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। 

নওগাঁর পার্শ্ববতী চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁর ৩টি উপজেলায় সতর্ক অবস্থা জারীর জন্য পুলিশী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রশাসন লকডাউন বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর নওগাঁয় এ সতর্কাবস্থা জারী করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় সীমান্তে অবস্থিত জেলার ৪টি উপজেলায় বিজিবি থেকে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: যশোরে ৮ জনের নমুনায় করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ জানান, আগে যেখানে শনাক্তের হার ছিল গড়ে ১৮ ভাগ সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় সেটি বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪ ভাগে পৌঁছেছে। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনায় মারা গেছেন ৩ জন এবং শনাক্ত হয়েছেন ৬৭ জন, যা এযাবতকালে জেলায় সর্বোচ্চ। 

তিনি আরো জানান, আজ (১ জুন) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে জেলার সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হবে কি না।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় নওগাঁর পোরশা, মান্দা ও নিয়ামতপুর উপজেলা সাথে যাতায়াতের জন্য ছোট-ছোট বেশকিছু সড়ক রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে তিনটি আঞ্চলিক সড়ক। এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতশত যান চালাচল করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-নওগাঁ সীমান্তে এসব সড়কে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এলাকায় করা হচ্ছে মাইকিং। চেকপোষ্টে জরুরী পণ্যবাহী যাহবাহন ছাড়া অন্য কোন যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া জানান, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-নওগাঁ সীমান্তে মাইকিং ও চেকপোষ্টে পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। 


নওগাঁ জেলার পত্নীতলা, সাপাহার, ধামুইরহাঁট ও পোরশা উপজেলা মিলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ১৩২ কিলোমিটার সীমানা রয়েছে। এই সীমান্তেও বিজিবি’র পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা পরিস্থিতি শুরু থেকে ১ লা জুন পর্যন্ত জেলায় সর্বমোট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ২ হাজার ৩ শত ১ জন। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। 


একাত্তর/আরএইচ