ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ: দুর্ঘটনার দায় নেবে না সড়ক বিভাগ

ময়মনসিংহে ঝুঁকিপূর্ণ  ‘মটকিভাঙ্গা’ ব্রীজের ওপর দিয়ে চলছে অতিরিক্ত লোডের বালু ও পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে যে কোন সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা- এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের। এমনটি হলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের জেলার সাথে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা। 

অথচ সড়ক বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন এই ধরনের দুর্ঘটনার দায় নেবে না তারা। 

ময়মনসিংহ শেরপুর সড়কের শম্ভুগঞ্জ চায়না মোড় সংলগ্ন চরকালিবাড়ি এলাকায় ৭৬ মিটার দৈর্ঘ্যরে মটকিভাঙ্গা নামের এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল ষাটের দশকে। এসময়ে একাধিকবার মেরামত করা হলেও কমেনি ঝুঁকির মাত্রা। বরং অতিরিক্ত লোডের বালু ও পণ্যবাহী ট্রাক এই ঝুঁকিকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এরকম পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগ ব্রীজের দুই পাশে সতর্কবার্তার সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা স্থায়ীত্বকাল শেষ হওয়ায় ব্রীজটি ধসে যে কোন সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

ময়মনসিংহ নগরীর প্রবেশদ্বার এই মটকিভাঙ্গা ব্রীজ হয়ে শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার যানবাহনসহ বালু ও পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে আসছে। কোন কারনে ব্রীজটি ধসে পড়লে এতদঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকবে না। সারাদেশের সাথে অচল হয়ে পড়বে যোগযোগ ব্যবস্থা-এমন আশঙ্কা ময়মনসিংহ ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাদের।

এরই মধ্যে একাধিকবার জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও ব্রীজের ঝুঁকি কমেনি। ব্রীজের পাটাতনের নীচে অনেক অংশে ফাটলসহ পলেস্তরা খসে পড়ায় রড বেরিয়ে এসেছে। অতিরিক্ত বালু ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারনেই ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে দাবি করে সড়ক বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ঘটনার কোন দায় নেবে না সড়ক বিভাগ।

সড়ক বিভাগ আরো জানায়, সরকারের ১৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ৭৬ মিটারের এই ব্রিজটি নির্মাণে চলতি সালের জানুয়ারি মাসে খুলনার মোতাহার এন্টারপ্রাইজ নামের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। অথচ গত ৫ মাসেও দৃশ্যমান কোন কাজ শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। উদ্যোগ নেই বিকল্প কোন ব্যবস্থারও।


একাত্তর/এসএ