চতুর্থবারের মতো কন্যাশিশুর জন্ম হওয়ায় ৮ দিনের নবজাতককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে মঙ্গলবার (১ জুন) ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহ মা শ্যামলী ঘোষকে (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
ঘটনার দিন রাতে পুকুরে এক নবজাতকের লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে তালা থানা পুলিশ গিয়ে পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করে। উদ্ধার করা নবজাতকের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মৃত বিষ্টু পদ ঘোষের ছেলে মানিক ঘোষের স্ত্রী শ্যামলী ঘোষ গত ২৫ মে (মঙ্গলবার) চতুর্থবারের মতো একটি কন্যা শিশু প্রসব করেন। পরেরদিন বুধবার থেকে তার স্বামী মানিক ঘোষ বাড়ির কাউকে কিছু না বলে নিরুদ্দেশ হয়। এরপর সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় মায়ের কাছ থেকে নবজাতক শিশুটি হারিয়ে যায়। পরের দিন মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি প্রচার হলে পরিবারসহ গ্রামের লোকজন শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং বিষয়টি প্রশাসনকেও অবগত করা হয়।
শ্যামলীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মানিক-শ্যামলী দম্পতির তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এবারও তাদের কন্যা সন্তান হওয়ায় নবজাতকটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে পানিতে ফেলে দেয়া হয়ে থাকতে পারে। এদিকে নবজাতকের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন মানিক ঘোষ।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বিকাশ মন্ডল জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। শিশুটি হারিয়ে যাওয়ার খবরে তারা দিনব্যাপী খোঁজাখুঁজি করছিলেন। রাতে বাড়ির পুকুরে তার লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার ও তার মাকে হত্যার সন্দেহে আটক করে।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নবজাতকের মাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এর বাইরে এখনই কিছু বলা যাবে না।
একাত্তর/জো