বান্দরবানে বছরের শুরুতে ঘুমিয়ে থাকা ম্রো’দের ঘরে আগুন, হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রির মালিক কর্তৃপক্ষ এ আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তাদের দাবি, পুড়িয়ে মেরে ফেলতেই এই হামলা করা হয়েছে।
গত দুই জানুয়ারি দিবাগত রাত একটার দিকে জেলার লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের রেঙয়েন কারবারি পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় রেঙয়েন কারবারী জানিয়েছেন, রাতে হঠাৎ মানুষের চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শুনে ঘুম ভাঙে। দেখি তিন-চারটা ঘরে আগুন জ্বলছে। পরে নিচে গিয়ে দেখি আমার ঘরের দিকে ১০-১৫জন বাঙালি আসছেন। এমন অবস্থায় পরিবার নিয়ে জঙ্গলে লুকিয়ে পড়ি। তখন তারা আমার ঘরে এসে ভাঙচুর করে।
তিনি দাবি করেন, আগুনে পুড়িয়ে মারতেই এই শীতে গভীর রাতে হামলা করা হয়েছে।
রেঙয়েন বলেন, ঠিক কত ঘর হামলার শিকার হয়েছে তা এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট করা বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা সবাই যে যার মতো পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছি।
তবে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত মোট সাতটি ঘরবাড়িতে আগুন, ৫-৬টি ঘরে হামলা হয়েছে। এসময় ঘরের কিছু মালামাল লুট করা হয়েছে বলেও জানতে পেরেছি।
তার দাবি, লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকের পক্ষে দায়িত্বে থাকা দেলোয়ার, নুরু ও মহসিনের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে। তারা চারটি ট্রাকে করে আমাদের গ্রামে এসে এই হামলা চালিয়েছে।
এ ব্যাপারে লামার রাবার ইন্ডাস্ট্রির মালিক পক্ষের ম্যানেজার মো. কামাল বলেন, গ্রামে আগুন ও হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। শুনেছি গ্রামবাসীরা নাকি আমাদের ৪০০ একর জায়গায় নতুন করে ঘর তৈরি করছে। এই জায়গা গুলোতে আমাদের। ওদের না।
লামা থানার ডিউটি অফিসার এসআই (নিরস্ত্র) হোসেন ইবনে নাইম ভুইঁয়া বলেন, আমরা এ রকম কোনো ঘটনা শুনিনি। এইমাত্র আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম।
লামা সার্কেলের এসপি মো. আনোয়ারুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনিও একই কথা বলেন। তবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া কথা অবশ্য জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় ভোটকেন্দ্রে কোনো ডাকাত নেই: ইসি
সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তীবরীজী বলেছেন, সেখান গ্রামবাসী ও রাবার কোম্পানির মালিকদের মধ্যে অনেকদিন ধরে বিরোধ চলছে। এখন খতিয়ে দেখতে হবে ঘটনাটি প্রকৃত অর্থে কি ঘটেছে? যদি রাবার মালিকেরা ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে ওদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একাত্তর/এসি