বিয়েতে বর ও কনে পক্ষের হাতাহাতিতে বরের বাবার মৃত্যু

নীলফামারীর জলঢাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বরযাত্রী আসা এবং খাবার কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বর ও কনে পক্ষের হাতাহাতি থামাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন বরের বাবা। 

শুক্রবার (৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জলঢাকা পৌরশহরের ডাঙ্গাপাড়া আমরুলবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।  

জানা গেছে, নিহত নূর মোহাম্মদ মিয়া (৫০) রংপুরের উত্তম বাওয়াই হাজিরহাট এলাকার মৃত অবর উদ্দিনের ছেলে। 

এ ঘটনায় কনের বাবা আনোয়ারুল ইসলাম (৬৬) ও বাবুল হোসেন (২২) নামের দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান জলঢাকা থানার পরিদর্শক ফিরোজ কবির।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জলঢাকা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজল কুমার সরকার জানান, জলঢাকা উপজেলা ডাঙ্গাপাড়া আমরুলবাড়ি এরশাদের মোড় এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল আক্তারের সাথে গত ১৯  ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয় রংপুরের উত্তম বাওয়াই হাজিরহাট এলাকার নূর মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে জোনাব আলী মিয়ার। 

শুক্রবার ছিল কনে বিদায়ের অনুষ্ঠান। এদিন রাতে খাওয়ার সময় বরযাত্রীর সংখ্যা নির্ধারিতের অতিরিক্ত হওয়ায় কয়েকজন বরযাত্রীর খাবারের পাতে মাংস কম দেয়া নিয়ে কনেপক্ষের লোকজনের সাথে কথাকাটাকাটি শুরু হয় তাদের। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। 

এক পর্যায়ে ওই হাতাহাতি থামাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বরের বাবা নূর মোহাম্মদ মিয়া। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নূর মোহাম্মদ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহুর রহমান প্রধান জানান, স্বজনরা নূর মোহাম্মদ মিয়াকে মৃত অবস্থায় জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। 

আরও পড়ুন: চকরিয়ায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত তিন

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জলঢাকা থানার পরিদর্শক ফিরোজ কবির জানান, বরপক্ষের সাথে কনেপক্ষের হাতাহাতির এক পর্যায়ে বরের বাবা অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। হাতাহাতির ওই ঘটনায় কনের বাবাসহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, বরের বাবার মৃতদেহ জলঢাকা হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বর জোনাব আলী মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


একাত্তর/এসজে