কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই কাদের মির্জার সমর্থকদের হামলায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল (৫২) গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা বাদলের ব্যবহৃত গাড়ি ও তার সঙ্গে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হাসিবুল হোসেন আলালকে জখম করে।

বাদল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। 

শনিবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বসুরহাট বাজারের প্রেসক্লাব কোম্পানীগঞ্জের সামনে বসুরহাট টু দাগনভূঞা সড়কে এই ঘটনা ঘটে।  

অপরদিকে এ হামলার প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে কাদের মির্জার বিরোধী মিছিল করছে বাদলের অনুসারীরা।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও সেতুমন্ত্রীর ভাগনে মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু বলেন, শনিবার সকাল ৯টার দিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল তার ব্যক্তিগত গাড়িতে করে আওয়ামী লীগ নেতা আলালসহ ঢাকার উদ্দেশ্যে বসুরহাট হয়ে রওনা করেন। যাত্রা পথে বসুরহাট বাজারের প্রেসক্লাব কোম্পানীগঞ্জের একটু সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে কাদের মির্জা তার ৪০-৫০জন অনুসারী নিয়ে বাজার পরিদর্শন করে আসার পথে বাদলের গাড়ির মুখোমুখি হয়। এ সময় কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার অনুসারীরা বাদলের গাড়ির গতিরোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে তার গাড়ির পেছনে গুলি করে। এক পর্যায়ে গাড়ির গতিরোধ করে তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। প্রথমে বাদলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায়ে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক থেকে লাইভে এসে মঞ্জু উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা করেন। এসময় তিনি আবদুল কাদের মির্জার গ্রেপ্তার ও তার অনুসারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি জানান। 

আরও পড়ুন: এবারও হজে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না বাংলাদেশিরা

অপরদিকে, মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে তার কর্মী সমর্থক ও অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে। 

সকাল সাড়ে ১০টায় হামলার ঘটনায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নে কাদের মির্জার বিচার দাবি করে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা কাদের মির্জার গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।


এদিকে বাদলের ওপর হামলার ঘটনায় দুপর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে বাদলের অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এসময় চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিয়াল্লাগো বাড়ির বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম সবুজ (৫৫), তার ছেলে চয়ন (২০) ও তার ভাগিনা আরিয়ান (২৩), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের রুপনগর গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় (২৮) গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, বাদলের অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিলে পুলিশ ব্যারিকেড তুলতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা এ গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা সর্টগানের গুলি করে। এতে কেউ গুলিবিদ্ধ হলেও হতে পারে। হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন  রয়েছে।

একাত্তর/এসি