চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় একটি মাদরাসা থেকে ১০ বছর বয়সী এক ছাত্র সাবিব সায়হানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দারুস সফা তাহফিজুল কোরআন মাদরাসার চতুর্থ তলার টয়লেট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা দাবি করলেও ওই শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ পরিবারের।
প্রতিদিনের মত নিজ সন্তান সাবিব সায়হানকে বাসায় নিয়ে যেতে সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে মেহেদীবাগের দারুস সূফ্ফাহ তাহফিজুল মাদরাসায় যান বাবা মশিউর রহমান। অনেকক্ষণ নিচে অপেক্ষার পর ছেলে না আসলে ফোন করেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে। কিছুক্ষণ পর মাদ্রাসা শিক্ষকরা জানান, সাবিব গলায় ফাঁস দিয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ১০ বছরের শিশু সাবিবের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও স্থানীয়রা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে দোষীদের বিচার চেয়েছেন তারা। ঘটনার পর থেকে পলাতক মাদরাসার শিক্ষক রেদোয়ান।
নিহত শিশুর বাবা মশিউর রহমান বলেন, প্রতিদিন আমি আমার ছেলেকে সকালে মাদরাসায় দিয়ে আসি, আর সন্ধ্যায় বাসায় নিয়ে যাই। সন্ধ্যায় মাদরাসায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ছেলে নিচে না নামলে আমি শিক্ষকদের বললে, তারা বলে পাঠাচ্ছি।
আরেকজন বলে বাথরুমে গেছে। চলে আসবে। প্রায় ২০ মিনিট পর এক ছাত্র উপর থেকে বলে আঙ্কেল তাড়াতাড়ি উপরে আসুন সাবিবের অবস্থা ভালো না। তখন আমি দৌড়ে তিনতলায় গিয়ে দেখি তারা আমার ছেলেকে ধরাধরি করে নিচে নামিয়ে হাসপাতালে নিচ্ছে।
জানতে চাইলে বলে গলায় ফাঁস দিয়েছে। তখন দ্রুত ম্যাক্স হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকরা জানায় আমার ছেলে আর বেঁচে নেই।
আরও পড়ুন: পুলিশের পোশাক ও হাতকড়াসহ ভুয়া পুলিশ গ্রেপ্তার
মাদরাসার অধ্যক্ষের হাফেজ ফোরকান মনসুরের দাবি, সাবিব টয়লেটে ঢুকে বেল্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে কী কারণে তা হয়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।
ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলছে পুলিশ। ঘটনার কারণ উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণসহ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে জানায় পুলিশ।
একাত্তর/এসি