পর্যটকের উৎপাতে জীববৈচিত্র হারাচ্ছে টেংরাগিরি বনাঞ্চল

হাজারো পর্যটকের নিয়ন্ত্রণহীন অবাধ বিচরণ ও সাগরের ঢেউয়ের ভাঙনে বিপন্ন হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর টেংরাগিরি বনাঞ্চল। পর্যটকদের লাগানো আগুনে ধ্বংস হচ্ছে বনের গাছ, সাগরের ভাঙনে কমছে বনের পরিধি। এমন অবস্থায় ঝড়-ঝঞ্জা থেকে উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় এই বনাঞ্চল বাঁচিয়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। 

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর সুন্দরবন খ্যাত টেংরাগিরি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। বনটির আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৩ একর। এখানে প্রায় দুই কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় টেংরাগিরি ইকোপার্ক। ২০১৩ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে টেংরাগিরি। 

ইকোপার্কে দেখা যায় মায়াবী হরিণ, কাঠবিড়ালি, কুমির, বানর, শুকর, সরীসৃপসহ নানা ধরনের বন্যপ্রাণী। এছাড়া আছে সুন্দরবনের হাজারও গাছ। বাহারি এসব গাছের মধ্য দিয়ে আঁকাবাঁকা তিন কিলোমিটার পথ হাঁটলেই দেখা মিলবে সমুদ্র সৈকতের।

বরগুনার তালতলী উপজেলা থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকত পর্যন্ত বিস্তৃত এই বন পর্যটকদের কাছে পরিচিত ফাতরার বন হিসাবে। এই বনে হিংস্র বাঘ ছাড়াও সুন্দরবনের সব প্রাণীই আছে। তাই সুন্দরবন বেড়ানোর অনুভূতি পেতে ফাতরার বনে যান কুয়াকাটা বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা।

তবে ফাতরার বন ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠছে এই পর্যটন। দলবেঁধে পর্যটকদের হৈ-হুল্লোরে এখন আর হরিণ-বানরের দেখা মেলে না। তার উপর ম্যানগ্রোভ গাছে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে অনেক পর্যটক। নানাভাবে ইকোপার্কটি ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার জীববৈচিত্র। 

টেংরাগিরি সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনের জীববৈচিত্র্যও নষ্ট হচ্ছে বলে পরিবেশ কর্মীরা অনেক দিন থেকেই সোচ্চার হলেও এনিয়ে প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই। পরিবেশ কর্মীরা বলেন, এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল টেকানো না গেলে প্রাকৃতিক ঝড়-ঝঞ্জা থেকে দক্ষিণাঞ্চলও রক্ষা পাবে না। তাই প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করেই পর্যটনের উন্নয়ন করতে হবে।

১৩ হাজার ৬৪৪ একর জমি নিয়ে তৈরি হয়েছিলো ফাতরার বন বা টেংরাগিরি বনাঞ্চল। তবে অপরিকল্পিত পর্যটন আর দুর্বৃত্তদের গাছ কেটে নেয়ায় কমে যাচ্ছে এর আয়তন।


একাত্তর/আরবিএস