দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপদাহ। এরইমধ্যে প্রচণ্ড গরমে কাহিল হয়ে পড়ছে মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৩৫ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে আরো কয়েকদিন।
চৈত্রের শেষে আগুন ছড়াচ্ছে সূর্য। তার মধ্যে চলছে রোজা। প্রচণ্ড গরমে তাই রাজশাহীতে ঘরের বাইরে বের হওয়া মানুষগুলোকে পড়তে হচ্ছে কষ্টে। এর মধ্যে উপায় না থাকা খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
রাজশাহীর কয়েকজন শ্রমিক জানান, গরম এবং রমজানে তাদের কাজ করতে বেশ কষ্ট হচ্ছে।
প্রচণ্ড গরমে যশোরে খেটে খাওয়া মানুষগুলো সুযোগ পেলেই শীতল হচ্ছেন গাছ তলায়। অনেকে আবার স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করছেন পুকুরে ঝাঁপিয়ে।
সাধারণ মানুষের দাবি, গরম শুরু হওয়ার পর থেকেই চাপ বেড়েছে বিদ্যুতের। ফলে আরো বেশি অস্বস্তিতে পড়েছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গাতেও গরমের কারণে রাস্তায় কমে গেছে মানুষ। কষ্টে আছে শ্রমজীবীরা। জেলায় এখন পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৯.০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
স্থানীয় এক টমটমের চালকের চাকা ফেটে গেছে গরমে। তিনি বলেন, এই রোদে তাদের বাইরে বের হওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও একরকমে বাধ্য হয়েই পথে নামতে হচ্ছে।
ঝিনাইদহেও সূর্যের প্রখর তাপে মানুষের জীবন নাভিশ্বাস। পেটের তাগিদে দিনমজুররা বাধ্য হচ্ছেন কাজে যেতে।অনেকেই সুযোগ পেলে বিশ্রাম নিচ্ছেন গাছের নিচে।
চৈত্রের তাপদাহে বরিশালে রাস্তায় কমেছে লোকজনের উপস্থিতি কমেছে। কাজ কমে গেছে শ্রমজীবীদের।
গরম বাড়ায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি ডায়রিয়া রোগী। কুয়াকাটা সৈকতেও কমেছে মানুষের উপস্থিতি।
মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে চা শ্রমিকরা। রোদে অল্প কাজ করেই তারা ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন।
কয়েকজন চা শ্রমিক জানান, গরমে কাজ করতে গিয়ে তাদের অনেকের প্রেশারসহ আরো নানান ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেকে আবার মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
আরও পড়ুুন: মডেল নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র, প্রস্তুত বাংলাদেশ: মোমেন
তারা জানান, ৮ ঘণ্টা ডিউটি করলেও তাদের দিকে তেমন নজর নেই মালিক পক্ষের। রোদে নেই বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও।
এরইমধ্যে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৃদু তাপদাহ আরও কয়েক দিন থাকবে। আপাতত নেই বৃষ্টির পূর্বাভাস।
একাত্তর/আরএ