আগুনের ঝুঁকিতে চট্টগ্রামের ১২০০ মার্কেট

চট্টগ্রাম মহানগরীতে রয়েছে ছোটবড় ১২০০ মার্কেট। এরমধ্যে বেশীরভাগ মার্কেট ও বিপণীবিতান রয়েছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে। নগরীর রিয়াজউদ্দীন বাজার, তামাকুমন্ডি লেন, টেরিবাজার, জহুর হকার মার্কেট রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। এসব মার্কেটে লোকসমাগম ও বেচাবিক্রি হয় সবচেয়ে বেশী। 

তবে অগ্নিকাণ্ডের মত দুর্ঘটনা ঘটলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বেশীর ভাগ মার্কেটের ভবনগুলোতে। প্রতিবছরই তাই বিভিন্ন মার্কেটে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। 

ফায়ার সেফটির কোন ব্যবস্থা না থাকাসহ বেশ কিছু অব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি মার্কেটকে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জরিমানাসহ সতর্ক করলেও, মার্কেট কর্তৃপক্ষ নেয়নি কোনও কার্যকর পদক্ষেপ। 

আর নগর পরিকল্পনাবিদরা জানালেন, সঠিক আইন প্রয়োগের অভাবেই বিভিন্ন মার্কেট ও ভবন মালিকরা এসব বিষয়ে অসচেতন থেকে অনিয়মগুলো করছেন। তবে ঢাকার বঙ্গবাজার আগুন দুর্ঘটনার ভয়াবহতার পর ঝুঁকিপূর্ণ কিছু মার্কেটের কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা শীঘ্রই কর্তৃপক্ষের দেওয়া শর্তগুলো পূরণ করবে।

নগরীর তামাকুমন্ডি বাজারের ভিতরে রয়েছে অসংখ্য সরু সরু গলি, যেখানে দুইজন মানুষ পাশাপাশি হাঁটাই দায়। তামাকুমন্ডির পাশে রয়েছে রিয়াজুদ্দীন বাজার, হকার মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি মার্কেট, যেখানে রয়েছে কয়েক হাজার দোকান।

এসব মার্কেটে নেই পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা, নেই অগ্নিকাণ্ড ঘটলে বের হওয়ার বিকল্প পথ। তার উপর রয়েছে খোলা বৈদ্যুতিক তারের জঞ্জাল।

ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েকটি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকাসহ নানা অনিয়মের কারণে জরিমানা করলেও, মার্কেট কর্তৃপক্ষ কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ায় আতংকিত ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক বলেন, ফায়ার সেফটির কোনও ব্যবস্থা না থাকা এবং উচ্চমাত্রার যেসব বৈদ্যুতিক লাইন রয়েছে সেগুলো খোলা থাকাসহ নানা অনিয়মের কারণে নগরীর ৭০ শতাংশ মার্কেট ও বিপণী বিতান উচ্চ মাত্রার অগ্নি ঝুঁকিতে রয়েছে।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, যেসব মার্কেট ও বাণিজ্য বিতান অনুমোদনহীন ভাবে ভবন সম্প্রসারণ করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।অচিরেই এসব ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

তবে মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ একথা স্বীকার করে তামাকুমন্ডির ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, প্রশাসনের দেয়া শর্তগুলো দ্রুত পূরণ করে মার্কেটকে নিরাপদ করে তোলা হবে।

আরও পড়ুন: বাস ও পিকআপের সংঘর্ষে দুই চালক নিহত, আহত ১০

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, সঠিক আইন প্রয়োগ ও তদারকির অভাবেই বিভিন্ন মার্কেট ও ভবন মালিকরা এসব বিষয়ে অসচেতন থেকে অনিয়মগুলো করছেন। এক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হতে হবে।

চট্টগ্রামের তামাকুমন্ডি ও রিয়াজুদ্দিন বাজারেই রয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক খুচরা ও পাইকারি মার্কেট। এসব মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড হলে এর আর্থিক ক্ষতি রাজধানীর বঙ্গবাজারের ভয়াবহতাকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন এসব মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। 


একাত্তর/এসজে