ঈদ যাত্রায় পথে ভোগান্তি নেই, গরমে অস্বস্তি

পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ীর টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। উত্তর থেকে দক্ষিণ- সর্বত্র ছুটে চলা। ভোরের আলো ফোটার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যে যেভাবে পারছেন ফিরছেন।

এবারের ঈদযাত্রা অন্যান্যবারের তুলনায় ভিন্ন। সড়কে যানজট নেই বললেই চলে। প্রতিবার ঈদযাত্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে মানুষের যে সময় নষ্ট হতো এবার তার ছিটে ফোঁটাও নেই। আর তাতেই খুশি যাত্রীরা।

তবে দেশে চলমান তাপদাহে বেশ অস্বস্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। যানবাহন চালক ও হেলপাররা বলছেন, গরমে যাত্রী তুলনামূলক কমেছে। তবুও ঈদের ছুটিতে অবশ্যই বাড়ি যেতে হবে, তাই প্রচণ্ড গরম সহ্য করেই যাত্রা শুরু করেছেন ঘর মুখো অনেকেই।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে একাত্তরের সংবাদদাতা ও প্রতিবেদকরা জানান, এবারের পরিস্থিতি গত বছরগুলোর তুলনায় ভালো। তারা এজন্য প্রশাসন এবং সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরেন।

গাজীপুর প্রতিবেদক ইকবাল সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গাড়ির চাপ দেখা যায়। ময়মনসিংহ মহাসড়কের অবস্থা আগের চাইতে ভালো। এ পরিস্থিতি গত ১০ বছরের চেয়ে ভালো বলে জানান যাত্রীরা। আগের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাউকে আর জটে পড়ে থাকতে হচ্ছে না।

গাজীপুর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা অতিরিক্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছি। তাছাড়া পথের মধ্যে যেন স্টপেজ ছাড়া কোথাও গাড়ি না দাড়াতে পারে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল থেকে একাত্তরের প্রতিনিধি এম এ রাজ্জাক জানান, বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের যানজটের চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। যানবাহনের চাপ বাড়লেও পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্যদের আন্তরিকতায় যানজট এড়ানো গিয়েছে।

মাওয়া থেকে প্রতিনিধি জসিমউদ্দীন দেওয়ান জানান, পদ্মায় মোটরসাইকেল চলাচলের কথা বিবেচনা করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সকাল থেকেই মোটরসাইকেলেও বেশ ভিড় দেখা যায়।

টোলপ্লাজায় কাজ করা ব্যক্তিরা দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন। কোন ধরনের কালক্ষেপণ ছাড়াই মোটরসাইকেলগুলো এসেই চলে যেতে পারছে। তাদের জন্য আলাদা লেন এবং কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ভাঙ্গার জাজিরা থেকে এ কে এম নাসিরুল হক জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরতে পেরে খুশি হয়েছেন। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসন জট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিবেদক ফাল্গুনি রশীদ জানান, আমরা আগের বছরগুলোতে যে পরিমাণ যানজট দেখতাম এবার তা অনেকটাই কমেছে। যারা টিকেট কেটেছেন এবং যথাযথ সিট পেয়েছেন তারা খুবই খুশি।

এছাড়া ট্রেনগুলো এখন যথাযথ সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে।

সারাদেশের বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। দেশের কোথাও কোথাও তা ছাড়িয়ে গেছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ঢাকায় ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকলেও অনুভূত হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত পাঁচ

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, গাছপালা ও জলাধার কমে যাওয়ায় গরম দিন দিন তীব্র হচ্ছে। দিনের তাপ দ্রুত বের না হওয়ায় রাতেও থাকছে গরম থাকছে।

একাত্তর/আরএ