ঝড়, বৃষ্টির আগেই ফসল ঘরে তুলতে নেত্রকোনার হাওর বেষ্টিত ছয় উপজেলায় চলছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে হাইব্রিড ধানের ফলন ভালো হয়েছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে বেশি। এবছর পর্যাপ্ত কম্বাইন্ড হারভেস্টার থাকায় কৃষকের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কাও নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নেত্রকোনার হাওর বেষ্টিত খালিয়াজুড়ি, মদন, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, কলমাকান্দা ও আটপাড়া উপজেলায় চলছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ।
অল্প সময়ে স্বল্প খরচে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শেষ করতে কাজ করছে সাতশ'র বেশি কম্বাইন্ড হারভেস্টার। যেসব ফসলি জমিতে মেশিন যেতে পারছেনা সেসব জমিতে হাতে ধান কাটছেন শ্রমিকরা।
তিন সপ্তাহের মধ্যে হাওরের সব ফসল ঘরে তোলা যাবে বলে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
এদিকে বন্যার আশঙ্কায় নেত্রকোনায় হাওরের বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে মাইকে প্রচার চালাচ্ছে কৃষি বিভাগ।
আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে তিন মে পর্যন্ত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে টানা ১১ দিন ভারী বৃষ্টিপাতে আগাম বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই দ্রুত হাওরের পাকা ধান কেটে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
নেত্রকোনার হাওড়ের জমিতে এবার হাইব্রিড জাতের ধানের ফলন ভাল হয়েছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে বেশ। এবছর ব্রি-৮৮ ধানের আবাদ বেড়েছে প্রায় ছয়গুণ। কৃষকদের ব্রি-২৮ জাতের বদলে এই ধান আবাদের পরামর্শ দিয়েছিল কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, নেত্রকোনা জেলায় এবছর এক লাখ ৮৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে হাওরে জমির পরিমাণ ৪০ হাজার ৯ শত ৭০ হেক্টর।
এদিকে হাওরের ফসল রক্ষায় কীর্তনখোলা অস্থায়ী বাঁধকে স্থায়ী বাঁধে রূপান্তরের দাবী উঠেছে।
একাত্তর/আরবি