ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিকুর রহমান চৌধুরীর ওপর হামলায় আনসার ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এসময় ইউএনও’র ব্যবহৃত গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর চরপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার জানান, ওই এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ নিয়ে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় একটি পক্ষ বিরোধিতা করে আসছিল। বুধবার রাতে প্রকল্প এলাকায় নির্মিত ছাপড়া ঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ইউএনওকে বাঁধা দেন।
এসময় ইউএনও বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে প্রকল্প এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনার এক পর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে ইউএনও ও তার সাথে থাকা অন্যদের উপর হামলা চালায় স্থানীরা। এসময় ইউএনও ছাড়াও অন্তত চারজন আনসার সদস্য ও অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়।
আহত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর গত দুই মাস যাবৎ স্থানীয় জমির মালিকদের সাথে আলোচনা করি।’
তিনি জানান, কিছু জমিতে এস এ রেকর্ডে ব্যক্তি মালিকানায় থাকলে ওই জমিগুলো বাদ দিয়ে সরকারি খাস খতিয়ানভূক্ত জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রকল্পের কাজের স্বার্থে একটি ছাপড়া ঘর নির্মাণ হয়েছিলো, সেটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে শুনে তিনি দেখতে যান। যাওয়ার পথে কিছু মানুষ বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে আনসার ও পুলিশ সদস্যদের সাথে উত্তেজনার এক পর্যায়ে তারা অতর্কিতে হামলা করে।
আরও পড়ুন: পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশির মরদেহ ফেরত দিলো ভারত
ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. রফিকুজ্জামান জানান, ইউএনও আশিকুর রহমান চৌধুরীর চোখের উপরে জখম হয়েছে, তবে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) সুমন কর জানান, পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
একাত্তর/এসজে