মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলাটি দেশ কিংবা দেশের বাইরের মানুষের কাছে সমান পরিচিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের নামে। বছরের পুরোটা সময় জুড়েই ভ্রমণপিপাসু মানুষ এই জলপ্রপাতটি দেখতে আসেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো হলেও, পরিবেশ রক্ষায় আরো কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটকরা।
শ্রীহট্টের রাজা গোবর্ধন পাথারিয়া পাহাড়ে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ শুরু করলে সেখানে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মাটির নিচে এক সন্ন্যাসীকে দেখতে পান। কথিত আছে, সেই সন্ন্যাসীর আত্মবিসর্জনের পর পাহাড়ে তার নাম ধ্বনিত হতে থাকে। তখন রাজা এই পাহাড়ের নাম রাখেন মাধবকুণ্ড।
পাহাড়টি সম্পূর্ণ পাথরের হওয়ায় এর গা জুড়ে যে বড় অংশের ছড়াটি আছে তার উপরের অংশের নাম গঙ্গামারা ছড়া আর নিচের অংশের নাম মাধবছড়া। বর্ষায় পানির প্রবাহ বাড়লে দুই ছড়া মিশে গিয়ে যে জলপ্রপাত তৈরি হয় তা উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে আসে মানুষ।
২০০ ফুট উচ্চতার এ জলপ্রপাতের কাছে এলে অনেকেই নিজেদের আটকে রাখতে পারেন না বলে নানা দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৩ সালে এক পর্যটকের মৃত্যুর পর জলপ্রপাতের কাছাকাছি যেতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা জোরালো করায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে দিনকে দিন।
তবে, পর্যটন স্থান হিসেবে দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে মাধবকুণ্ডের প্রাণ-পরিবেশ রক্ষায় এখনো আরো পরিকল্পনার দরকার বলে মনে করেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। প্রায় এক দশকের মধ্যে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে পরিকল্পিত কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। এতে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক অনেক পর্যটকের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে। সেদিকেও নজর দিতে বলেছেন তারা।
আরও পড়ুন: খুলনা সিটিতে টিকে রইলেন তিন প্রার্থী
পর্যটকররা অভিযোগ করেন, মাধবকুণ্ডের সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভাব। ব্যবস্থাপনাটা খুবই দুর্বল।
জলপ্রপাত এলাকায় পর্যটকদের বসার ও বিশ্রামের ভালো ব্যবস্থা নেই। অনেক দূরদূরান্ত থেকে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ আসেন। শতশত পর্যটকদের জন্য একটি মাত্র শৌচাগার। এটা খুবই দুঃখজনক।
একাত্তর/আরএ