গাজীপুর সিটি নির্বাচন

প্রার্থীদের যেসব তথ্য তুলে ধরলো সুজন

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে পাঁচ জনই স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। আর একজন স্বশিক্ষিত এবং আরেকজন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। অন্যদিকে, মোট প্রার্থীর ২৯.৭৩ শতাংশ মামলার আসামি। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ৩৩৩ জন প্রার্থীর তথ্য বিশ্লেষণ করে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

সকাল ১১ টায় গাজীপুর প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি বলেন, একজন প্রার্থীর যোগ্যতার পুরোপুরি তথ্য ভোটারের জানা উচিত। এতে একজন ভোটার উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আট মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে। এর দুজন হলেন জাতীয়য় পার্টির নিয়াজ উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনূর ইসলাম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খানের বিরুদ্ধে অতীতে তিনটি মামলা ছিলো। বর্তমানে কোনো মামলা নেই। তার বিরুদ্ধে অতীতে হওয়া মামলার একটি ছিলো ৩০২ ধারায়।

২৪৬ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৮৪ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪২ জনের বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২৮ জনের উভয় সময়ে মামলা ছিলো বা আছে। প্রার্থীদের মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩০২ ধারার মামলা রয়েছে, ৪ জনের বিরুদ্ধে অতীতে ৩০২ ধারার মামলা ছিল।

৭৯ জন সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা আছে এবং ৩ জনের বিরুদ্ধে অতীতে ফৌজদারি মামলা ছিল। একজনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩০২ ধারার একটি মামলা রয়েছে, তিনি হলেন সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের।

তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ৩৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯৯ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪৭ জনের বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২৯ জনের বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল। ৩০২ ধারায় ৯ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং ৫ জনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিলো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে পাঁচ জনই স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তারা হলেন– আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আজমত উল্লা খান,জাতীয় পার্টি মনোনীত এম এম নিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত গাজী আতাউর রহমান, স্বতন্ত্র শাহানুর ইসলাম ও হারুন-অর রশিদ।

স্বতন্ত্র নারী মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন স্বশিক্ষি। আর জাকের পার্টির মেয়র প্রার্থী রাজু আহমেদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ৯২ জন মাধ্যমিক পাস করেননি। স্নাতকোত্তর রয়েছেন ২১ জন। সংরক্ষিত মোট ৭৯ জন নারী কাউন্সিলরের মধ্যে ৪০ জন মাধ্যমিক পাস করেননি। স্নাতকোত্তর রয়েছেন ৮ জন।

মেয়র এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগের পেশা ব্যবসা। মেয়র পদে তিন জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পথে ১৯২ জন পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৭৯ জনের মধ্যে ৩৯ জন গৃহিণী।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশিরের সঞ্চালনায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন– সুজনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী তৌফিক জিল্লুর রহমান, গাজীপুর মহানগর কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম রাজীব, গাজীপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

 

 একাত্তর/এআর