ডেমরায় পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে সভা

ডেমরায় বকেয়া মজুরি ও আইনসঙ্গত সকল পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে সভা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ব করিম ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের কয়েকশত অস্থায়ী বদলী শ্রমিকরা।

সোমবার সকালে ডেমরার কামারগোপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক নেতা মো.সিরাজের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রায়ত্ব ২৫ জুট মিলের শ্রমিক আন্দোলনের সমন্বয়ক রুহুল আমিন। এ সময় সভায় অবিলম্বে দেশের ২৫ টি বন্ধ পাটকলের অস্থায়ী বদলী শ্রমিকদের পূর্বের  আইনসঙ্গত সকল প্রকার পাওনা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বন্ধ পাটকলগুলোতে পুরাতন মেশিনের পরিবর্তে আধুনিক ও দ্রুত উৎপাদনমুখী স্বয়ংক্রিয় মেশিন স্থাপন করে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করার আহাবানও জানানো হয়।

সভায় পাটকল শ্রমিকেরা বলেন, গত ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে বন্ধ পাটকলগুলোর বকেয়া এরিয়ার টাকা, করোনাকালীন লকডাউনের বকেয়া সপ্তাহের টাকা, ১ টি উৎসব বোনাস, ৫ সপ্তাহের বকেয়া, ৯টি বোনাস, ৫ টি বৈশাখী ভাতা ও ২দিনের মজুরীসহ অন্যান্য বকেয়া আমাদের পরিশোধ করা হয়নি। অবিলম্বে আমাদের পাওনা পরিশোধ করা হোক। পাশাপাশি পাটকলগুলো বন্ধ হওয়ার পর মানবিক দিক বিবেচনা করে পাটকল শ্রমিকদের ১ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত অনুদান সরকারিভাবে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আগামী ৩০ জুন শ্রমিকদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার রাজপথে প্রতিটি জুটমিলের শ্রমিকেরা বৃহত্তর কর্মসূচী পালন করবে।

শ্রমিকরা আরও বলেন, পাটকল বন্ধ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আদায় করছেনা। পাটকল বন্ধের পর বর্তমানে ১২ মাস চলছে। এমতাবস্থায় কর্মহীন শ্রমিকরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

বক্তারা বলেন, পাটকল শ্রমিকদের কান্না শোনার যেন কেউ নেই। অথচ পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন করলেই পাটশিল্পে আর লোকসান গুনতে হবেনা। সেই সঙ্গে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর জাতীয়করন করা পাটশিল্পের পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসবে নতুনভাবে।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, ইউ.এম.সি জুট মিলের শ্রমিক নেতা ফারুক খাঁন, লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস বদলী শ্রমিক সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ, করিম জুট মিলের বদলী শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি গোফরান মিয়া, সহ-সম্পাদক মো: এরশাদ, লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের বদলী শ্রমিক সংগঠনের সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ইব্রাহিম,মো: আশিকুর রহমান, মো: মাসুদ প্রমূখ।


একাত্তর/এআর