অনাবৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে জুম চাষীরা

অনাবৃষ্টি আর খরার কারণে এবার পাহাড়ে ব্যাহত হয়েছে জুম চাষ। যে কারণে খাদ্য ঘাটতির শঙ্কা করছে জুমিয়া পরিবারগুলো। তারা বলছেন, এই জুম চাষের ওপরই পাহাড়ের একটি বড় অংশ নির্ভরশীল। যা থেকে সারা বছরের খাদ্যের যোগান হয়। কিন্তু এবার জুমে পর্যাপ্ত ফসল ফলাতে পারেননি।

জুম চাষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল ন্যাড়া করে রাখা পাহাড়। অনাবৃষ্টি আর খরার কারণে চাষ করতে পারেনি খাগড়াছড়ির পাহাড়িরা।

জঙ্গল কেটে আগাছা পোড়ানোর পর বৈশাখ মাসের শুরু থেকে জুমের বীজ বোনা হয়। তবে এবার অনাবৃষ্টি আর খরার কারণে ঠিকমতো বীজ বপন করতে পারেননি বেশিরভাগ জুমিয়া পরিবার। এরইমধ্যে যারা বীজ বপন করেছেন, খরায় তাদের জমিতেও গাছ গজায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, তারা বীজ রোপণ করলেও পানির অভাবে তা জন্মায়নি। ফলে অনেক বাধ্য হয়েই অন্য ফসল চাষের কথা ভাবছেন। সেসব ফসলও বৃষ্টির কারণে ভালো হচ্ছে না।

পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, ঠিকমতো বৃষ্টি না হওয়ায় এবার জুমিয়ারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অবশ্য সোলার প্যানেলে সেচের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মালেক বলেন, সাধারণত বৈশাখের পর পরই জুম চাষ করা হয়ে থাকে কিন্তু এবার অনাবৃষ্টির কারণে দেরি হচ্ছে।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ- পরিচালক কিশোর কুমার মজুদার বলেন, অত্যাধিক তাপমাত্রার কারণে জুম চাষীরা খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েছেন। যারা ফসলের বীজ বপন করেছেন- অনেক জায়গায় তা জন্মাচ্ছে না। তাপমাত্রা খুব বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ে লোকজন ঠিকভাবে খাওয়ার পানিও পাচ্ছেনা। তারা ফসলে দেওয়ার মতো পানি পাচ্ছেনা। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা জুমের পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনায় তাদের অন্যান্য ফসল চাষের পরামর্শ দিচ্ছি।

পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পাহাড়ে বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে। একারণেই বাড়ছে তাপমাত্রা আর খরা।

আরও পড়ুন: নওগাঁয় ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

খাগড়াছড়ির পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে আগে যতো গাছ ছিলো এখন তা নেই। ফলে দিনকে দিন বৃষ্টি বাড়ছে। তাপমাত্রা এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যা ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে গেছে।

কৃষি বিভাগের হিসেব মতে খাগড়াছড়িতে জুম চাষ করে প্রায় ৪ হাজার ৫শ’ পাহাড়ি পরিবার।

একাত্তর/আরএ