নীলফামারীতে এক কিশোরীকে অন্তঃসত্ত্বা দেখিয়ে ভুল প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগে ডোমার জেনারেল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে ২২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেইসাথে ক্লিনিকটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি।
তিনি জানান, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসাবে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে দায়ের হওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিত ওই ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৮, ৪০ ও ৫২ ধারায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ২২ হাজার টাকা জরিমানা এবং ক্লিনিক তালা দিয়ে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয় বলে জানান তিনি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন বিকেলে পেট ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে নীলফামারীর ডোমার জেনারেল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে যান ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী। এসময় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ইউরিন পরীক্ষা করাতে বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এরপর ডোমার জেনারেল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ইউরিন পরীক্ষা শেষে রিপোর্টে বলা হয় ওই কিশোরী ‘অন্তঃসত্ত্বা’। ওই প্রতিবেদন দেন ডা. নেহাররঞ্জন সাহা ও প্যাথলজি টেকনোলজিস্ট লক্ষণ রায়।
এমন রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ওই কিশোরীর অভিভাবকদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। রাতেই তারা তাকে ডোমারের আরও দু’টি ক্লিনিকে নিয়ে একই পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন, সে গর্ভবতী নয়।
অভিভাবক ও স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরের দিন সকালে ডোমার জেনারেল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবরোধ করে ক্লিনিক বন্ধের দাবি তোলেন। এর আগে তারা ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগে হোটেল মালিকের নামে পরোয়ানা
এই ঘটনায় ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাহিদা তাসনিম হিমিকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন সিভিল সার্জন ডা. হাসিবুর রহমান।
একাত্তর/এসজে