সুনামগঞ্জে দারাইন নদীতে স্রোতের তোড়ে দুই সন্তানসহ মা ভেসে গেছেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জেলার শাল্লা উপজেলার শাল্লা সরকারি কলেজ সংলগ্ন সেতুন নিচে বাহাড়া ডুবস্ত রাস্তায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের সন্ধানে চেষ্টা চলাচ্ছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। ডাকা হয়েছে ডুবিরও। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের হদিস পাওয়া যায়নি।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, নিখোঁজ নারীর নাম দুর্লভ রানী দাস। তিনি উপজেলার বিলপুর গ্রামের রতীন্দ্র দাসের স্ত্রী। সন্তানরা হলো- জবা রানী (৭) ও বিজয় দাস (৫)।
ডুমরা গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী সুব্রত দাস জানান, স্রোতে ভেসে যাওয়া মা দুই সন্তানসহ ওই রাস্তা পাড়ি দিয়ে গুঙ্গিয়ারগাও বাজারে আসছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই নারী সন্তানদের নিয়ে রওনা হন। তখন বাহাড়া-গুঙ্গিয়ারগাঁও ডুবন্ত সড়কের কালভার্টের অংশ উপচে দাড়াইন নদীতে পানি ঢুকছিল। এই অবস্থার মধ্যেই হন্যে হয়ে ওই নারী শাল্লা কলেজ সেতুর সংলগ্ন মূল সড়কে আসার চেষ্টা করেন। মানা করলেও তিনি শুনেননি।
তিনি জানান, রওনা দেওয়ার পরই তার ছেলে ছিটকে নদীতে পরে যায়। এসময় তাকে ধরতে গিয়ে অন্য সন্তানসহ তিনিও নদীতে পড়ে যান। মুহূর্তেই তীব্র স্রোতে তারা হারিয়ে যান। পরে আমি প্রশাসনকে বিষয়টি জানাই।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, স্রোতের তোড়ে হারিয়ে যাওয়াদের খোঁজ চলছে। ডুবুরি তলব করা হচ্ছে। তবে এখনো ডুবুরি এসে উদ্ধার কাজ শুরু করতে পারেনি।
আরও পড়ুন: কমতে শুরু করেছে তিস্তার পানি, এখন বিপৎসীমার নিচে
এদিকে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার সবগুলো নদ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে আছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭.২৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫২ মিলিমিটার।
একাত্তর/এসি