তিস্তাসহ যেসব নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে সেগুলো দ্রুত খনন করা হবে বলে জানিয়ছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাজমুল আহসান। তিস্তাকে গুরুত্বপূর্ণ নদী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভরাট হয়ে যাওয়া নদীগুলো নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তিস্তা নদী ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প পরিদর্শণে এসে তিস্তা সেচ প্রকল্পের রেস্ট হাউজের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সচিব নাজমুল আহসান বলেন, উত্তরাঞ্চালের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, এই এলাকার সাবিক পরিবেশ এবং কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এই সবগুলোকে মাথায় নিয়ে সরকার একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্ট্যাডি করছে। এই স্ট্যাডি শেষ হলে এর ভিত্তিতে নদী ব্যবস্থাপনার বিষয় গ্রহণ করা হবে।
তিস্তাসহ দেশের সব নদীর দুই পাড়ে কেন স্থায়ী বাঁধ হয় না এমন প্রশ্নে জবাবে সচিব বলেন, বাংলাদেশে লিখিতভাবে ৭০০’র বেশি নদ-নদী রয়েছে। এর মধ্যে প্রকৃত অর্থে আমাদের কাছে আছে ৪০৫টি। পর্যায়ক্রমে আমরা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জায়গায় যাচ্ছি। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতুর আপে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। সরকারের ডেলটা প্ল্যানের আওতায় পর্যায় ক্রমে প্রতিটি নদীর বাঁধ স্থায়ী করবো।
তিনি বলেন, দেশের নদীগুলোর সৌন্দর্য বাড়ানো এবং বিভিন্ন এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় তা দৃশ্যমানও হয়েছে। এছাড়া নদীর গতিপথ ঠিক রাখা, পলি অপসারণ এবং ভাঙন ও ঝুঁকি অংশ রক্ষায় প্রকল্প গ্রহণেরও কাজ চলমান রয়েছে।
পরে সেখানে রংপুর জোনে চলমান পানি সম্পদ মন্ত্রলায়য়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পর্যালোচনা ও বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন।
এসময় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মহাপরিচালক মো. রমজান আলী প্রামাণিক সাংবাদিকদের বলেন, তিস্তা নিয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান স্ট্যাডি করেছে। প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প হবে। প্রকল্পের স্ট্যাডি শেষ হয়েছে। এটির বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগির এটি বাস্তবায়ন হবে।
একাত্তর/এসি