কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। তিস্তা, ধরলা ব্রক্ষপুত্র, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। এসব এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা।

জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে দুধকুমার নদীর প্রবল স্রোতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মুড়িয়ারহাট ও আনসারেরহাটের প্রায় ছয়শ' ফিট ভেঙে সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এখানে প্রায় ১০হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। পানির তীব্রতার কারণে অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী স্কুলে ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবীরা। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুও খাদ্য কষ্টে রয়েছে। 

শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে জেলা প্রশাসক মোহম্মদ সাইদুর আরিফ কয়েকশ' বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ধরলা নদীর পানি ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ও দুধকুমার নদীর পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ পরিস্থিতি আগামী তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। তারপর পানি নেমে যাবে। 


কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো বাঁধ বন্যায় ডুবে যায়নি বলে নিশ্চিত করে তিনি জানান, নাগেশ্বরী উপজেলায় একটি সড়ক সংস্কারের কাজ করেছে পাউবো। সেটির দুটি অংশ প্লাবিত হয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে।

আরও পড়ুন: বিএনপির সন্ত্রাস নিয়ে সতর্ক থাকার আহবান কাদেরের

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুর আরিফ জানান, ইতিমধ্যে ৬৫ মেট্রিক টন চাল উপজেলাগুলোতে উপ-বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আমাদের কাছে ৫৮৫ মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ টাকা ও এক হাজার সাতশ' প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। আমরা বন্যার্তদের তালিকা করছি, তালিকা পেলে উপ-বরাদ্দ দেয়া হবে। 

শুক্রবার বিভিন্ন বন্যা এলাকা পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক আটশ' প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

একাত্তর/আরবিএস