উত্তরাঞ্চলে বন্যার অবনতি, বাড়ছে দুর্ভোগ

দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটে নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারও মানুষ। সেই সঙ্গে বেড়েছে দুর্ভোগ। এছাড়া জামালপুরে যমুনাসহ ছোট-বড় সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে।

একাত্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন 

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদীর পানি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে স্থানীয় সড়ক তলিয়ে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি কিছুটা কমলেও বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। ইতিমধ্যে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তারা স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানিসহ খাবার সঙ্কটে ভুগছেন।

জেলা প্রশাসক সাইদুল আরিফ জানিয়েছেন, বন্যার্তদের তালিকা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮০০ বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। 

গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া, ঘাঘটসহ সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তবে কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। পানিতে জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বীজতলা ও ফসলের ক্ষেত। ১৬৫টি চরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। 

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্ভোগে দিন কাটছে নদী পাড়ের প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের।  

জামালপুর

উজানের পাহািড় ঢল ও ভারী বর্ষণে জামালপুরে যমুনা ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও জিঞ্জিরামসহ অন্য নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তবে পানি বিপৎসীমারা নিচেই আছে। 

জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিচু এলাকা এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। খোলাবাড়ি ও ঝালরচরে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। 

নীলফামারী

উজানের ঢল আর ভারী বৃষ্টিপাতে এখনও নীলফামারীতে বিপৎসীমার ওপর রয়েছে তিস্তা নদীর পানি। শনিবার দুপুর থেকে নদীর পানি তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার ডিমলা উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পূর্বছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ১৫টি চরগ্রামে নদীর পানি প্রবেশ করায় প্লাবিত হয়েছে এসব চরগ্রামের ঘরবাড়ি। এতে ওই সব চরগ্রামের তিন সহস্রাধিক পরিবার হাঁটু সমান পানিতে বন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। 

তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ২০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর তালিকা তৈরি করে জমা দিলেই ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেবে উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে নদীর পানি কমলেও আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। 


একাত্তর/এসি