বরিশালে কৃষি বিভাগের সমলয় প্রকল্পের বোরো ধান চাষে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা বলছেন, বীজতলা তৈরি থেকে ধান বপন ও কাটা পর্যন্ত যাবতীয় খরচ প্রকল্পের মাধ্যমে দেয়ার কথা থাকলেও সেই নিয়ম মানেনি কৃষি বিভাগ। উল্টো একর প্রতি কৃষকদের খরচ করতে হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।
বরিশালের উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় এবার সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষের প্রকল্প নেয় কৃষি বিভাগ। এজন্য দুই উপজেলায় নির্বাচন করা হয় ৫০ একর করে মোট একশ’ একর জমি।
এসব জমিতে চাষাবাদের জন্য প্রকল্প থেকেই সব খরচ দেয়ার কথা। কিন্তু উজিরপুরের কৃষকরা সার ছাড়া আর কোন খরচই পাননি। এমনকি মেশিনে ফসল কাটার কথা থাকলেও সেই সহযোগিতাও দেয়নি কৃষি বিভাগ।
উজিরপুরের একাধিক কৃষক জানান, তাদের থেকে জমি চাষ এবং পানির টাকা নেওয়া হয়েছে।
একই অবস্থা হয়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের বেলায়ও। এছাড়াও কৃষি জমি নেই এমন ব্যক্তিকেও সেখানে এই প্রকল্পের সুবিধা দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা।
বাকেরগগঞ্জের কৃষকরা জানান, তারা সার ছাড়া কিছুই পাননি।
উজিরপুরের বামরাইলের ব্লক ম্যানেজার সূজন চৌকিদার জানান, প্রতি ২০ শতক জমিতে চাষ ও সেচের জন্য কৃষকরা খরচ করেছেন ১৮শ’ টাকা। প্রকল্প থেকে এই অর্থ দেয়ার কথা থাকলেও কোন কৃষক টাকা পাননি।
সূজন বলেন, ৪৫ জনের কাছ থেকে আমি পানির জন্য ৯শ’ টাকা করে নিয়েছি।
মেশিনে ফসল না কাটার জন্য অসমতল জমি ও বৃষ্টিকে দায়ী করেন উজিরপুরের কৃষি কর্মকর্তা। অন্যদিকে বাকেরগঞ্জের কৃষি কর্মকর্তার দাবি, তার এলাকায় ঠিক মতো কাজ হয়েছে।
উজিরপুরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কপিল বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টির জন্য দুই-এক জায়গায় সমস্যা হয়েছে। বাকি জায়গাগুলোতে সমস্যা হয়নি।
বাকেরগঞ্জের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীতি কুমার সাহা বলেন, জমির সার আমরা অফিস থেকে দিয়েছি।
এনিয়ে জানতে চাইলে বরিশালের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুরাদুল হাসান বলেন, কৃষকদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। কোন সমস্যা দেখা গেলে তা সমাধান করা হবে।
সমলয় প্রকল্পের চলমান কাজে নজরদারি বাড়ানোরও আশ্বাস দেন তিনি।
জেলার দুই উপজেলার প্রতিটির জন্য সমলয় প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৫’শ টাকা বরাদ্দ ছিল। কৃষকদের অভিযোগ, তাদের বঞ্চিত করে টাকা লোপাট করেছেন কর্মকর্তারা।
সরকার কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে টেকসই যান্ত্রিকীকরণের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে অন্যতম একটি সমবায়ভিত্তিক সমলয় চাষাবাদ পদ্ধতি। যেখানে একটি মাঠে বা মাঠের একটি অংশের সকল কৃষক সবাই মিলে একসঙ্গে একই জাতের ধান একই সময়ে যন্ত্রের মাধ্যমে রোপণ করেন।
আরও পড়ুন: সোনারগাঁয়ের রেলের জমি থেকে শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ
এ পদ্ধতিতে বীজতলা থেকে চারা তোলা, চারা রোপণ ও ধান কাটার সব প্রক্রিয়া যন্ত্রের সাহায্যে সমসময়ে সম্পাদন করা হয়। সমলয়ে ধান আবাদ করতে হলে চারা তৈরি করতে হবে ট্রেতে। ট্রেতে চারা উৎপাদনে জমির অপচয় কম হয়।
এছাড়া এ পদ্ধতিতে সব ধান কাটাও হয় একসাথে। সমলয় পদ্ধতিতে যন্ত্রের ব্যবহার সহজতর ও বৃদ্ধি করা সরকারের লক্ষ্য।
একাত্তর/আরএ