পটুয়াখালীর বাউফলে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাজনিন আক্তার নছিমন (১৪) বিয়ের একদিন পরই চেয়ারম্যানকে তালাক দিয়ে প্রেমিক রমজানকে বিয়ে করেছেন।
আজ রোববার (২৭ জুন) সকালে প্রেমিক রমজানের মামা বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় কনকদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারকে (৬০) তালাক দেয় নাজনিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মে মাসে কনকদিয়া ইউনিয়নের চুনারপুল এলাকার নজরুল ইসলাম হাওলাদারের মেয়ে নাজনিনের সঙ্গে নাজিরপুর ইউনিয়নের তাতেরকাঠি গ্রামের গার্মেন্টকর্মী সোহেলের বিয়ে হয়। ওই বিয়েতে সম্মতি ছিল না নাজনিনের। তাছাড়া নাজনিনের সঙ্গে তার গৃহশিক্ষক রমজানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
আরও পড়ুন: সালিসে প্রেমিককে তাড়িয়ে নিজেই বিয়ে করলেন চেয়ারম্যান
বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন সোহেল, নাজনিন ও রমজানের পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। নাজনিন সম্প্রতি রমজানের সাথে পালিয়ে যাওয়ার পর গত শুক্রবার কনকদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে মীমাংসার জন্য যান উভয় পরিবারের সদস্যরা। সেখানে সোহেল ও নাজনিনের বিয়ে বিচ্ছেদ করেন চেয়ারম্যান।
এ সময় চেয়ারম্যান নাজনিনকে দেখে পছন্দ করেন। তিনি নাজনিনের বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন। নাজনিনের সম্মতি নিয়ে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর কাজী ডেকে চেয়ারম্যান বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন।
চেয়ারম্যানের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, বিয়ের পর সামাজিক ও পারিবারিকসহ নানা চাপে চেয়ারম্যান বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপরই তিনি বিয়ে ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একদিন পরেই শনিবার সন্ধায় কাজী ডেকে নাজনিনের কাছ থেকে তালাকনামা রাখেন তিনি।
অবশ্য চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার বলেন, ''মেয়েটি তার প্রেমিকের কাছে ফিরে যেতে চায়। আমি জোর করে কারও সঙ্গে সংসার করতে চাই না।"
নাজনিন বলে, সে নিজের সিদ্ধান্তেই চেয়ারম্যানকে বিয়ে করেছিলো এবং নিজের সিদ্ধান্তেই তাকে তালাক দিয়েছে।
এদিকে কিশোরীকে বিয়ে করার অপরাধে চেয়ারম্যানের কোন শাস্তি হবে কি না এমন প্রশ্নে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে, যদি বাল্য বিয়ের ঘটনা হয় তাহলে চেয়ারম্যানকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
একাত্তর/এসজে