মেঘনার ভাঙন থামছে না, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

থামছে না মেঘনার ভাঙন। সব কিছু হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বাসিন্দাদের। গত এক মাসে ভাঙনে ভিটে মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে দুই শতাধিক পরিবার। স্থায়ী বাঁধ না হলেও আপাতত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর দাবি জানিয়েছেন নদী পাড়ের মানুষ।

মেঘনার পানি কমার সাথে সাথে তীব্র হয়েছে ভাঙন। আর বাঁধ না থাকায় ভাঙনের কবলে পড়েছে কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, নাছিরগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও কাদির পণ্ডিতের হাট এলাকার বেশ কয়েকটি অংশ।

একইভাবে ভাঙছে রামগতি উপজেলার বিবিরহাটসহ, চর টগরী, চর আলগী ও দক্ষিণ চর টগরীর বিভিন্ন এলাকা। ভাঙনের তীব্রতা কমাতে স্থায়ী বাঁধ না হলেও আপাতত জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

ভাঙন কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা জানান, বাঁধ না থাকায় বাড়ি-ঘর, ধানের জমি সব তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের শুরুতে রামগতি ও কমলনগরের মেঘনা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বাঁধে জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু অনিয়ম আর তদারকির অভাবে থেমে থেমে কাজ চলায় তা আর কাজে আসছে না।

ভাঙন রোধে দ্রুত বাঁধের কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরাও।

রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল জানান, দ্রুত আমরা কাজের বাস্তবায়ন চাই।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলছেন, রামগতি ও কমলনগরের মেঘনা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বাঁধের কাজ চলছে। বর্ষার পর ক্ষয়ক্ষতি জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লক্ষ্মীপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহাম্মেদ বলেন, বিগত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। তাই আমাদের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। বর্ষা কমে গেলে আমরা আবার কাজ শুরু করবো।

বাঁধ না থাকায় পুরো মেঘনা উপকূলই এখন অরক্ষিত হয়ে আছে। গত তিন যুগে কয়েক কিলোমিটার এলাকার ভাঙনে হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাইক্লোন শেল্টার, কাঁচা পাকা সড়ক, বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। এখনো হুমকিতে বহু স্থাপনা।