বাঁশ বেতের তৈরি পণ্য রপ্তানি করে স্বাবলম্বী বিনয় ভূষণ বেপারী

প্লাস্টিকের দাপটে যখন বাঁশ বেতের তৈরি উপকরণের চাহিদা কমছে, ঠিক তখনই এই পণ্য বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন বরিশালের গৌরনদীর বাঘার গ্রামের বিনয় ভূষণ বেপারী। বাঁশ বেতের তৈরি পণ্য বিদেশে পাঠিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি গ্রামের দুঃস্থ নারীদের কাজের সংস্থান তৈরি করে বড় ভূমিকা রাখছেন।

বংশ পরম্পরায় বছরের পর বছর ধরে বরিশালে গৌরনদীর বাঘার গ্রামে তৈরি হচ্ছে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা বাঁশ বেতের তৈরি সাজি, ওরা, ডুলা, ঢাকনাসহ বিভিন্ন পণ্য।

এরপর একে একে এর সাথে যুক্ত হয় ফলের ঝুড়ি, চায়ের ছাকনি, কানের দুল, চুলের ব্যান্ড, পাখির বাসা, কলমদানি, ল্যাম্পশেডসহ নানান পণ্য। এসব নতুন পণ্যের উদ্যোক্তা বিনয় ভূষণ বেপারী, যার পণ্য দেশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে বিদেশে।

বিনয় ভূষণ বেপারী বলেছেন, একটি ট্রেনিং করার আমি এ কাজ করা শুরু করেছি। তখন বিদেশ থেকে অর্ডার আসে। এরপর তারা আমাকে ক্যাটালগ পাঠায়। বিশেষ করে চায়ের ছাকনি, ল্যাম্পশেড, ফ্রুট বাস্কেট ওরা আমাকে যা ক্যাটালগে পাঠায়, তা দেখে আমি জিনিস পাঠিয়ে দিই।

এখন গৃহস্থালি কাজের ফাঁকে এসব পণ্য তৈরি করেন এলাকার বেশিরভাগ নারী। পণ্যের ধরণ অনুযায়ী ভালো মজুরি পেয়ে সন্তুষ্ট তারা।

তবে কেবল নারীরাই নয়, পণ্যের চাহিদা বেশি থাকলে এলাকার শিক্ষার্থীরাও এই কাজে অংশ নেন। অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন একে পেশা হিসেবে নিতে।

করোনাকালে পণ্য রপ্তানি কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে জাপান, চীন, থাইল্যান্ড আর ইতালিতে পণ্য পাঠানো হচ্ছে বলে।

উৎপাদক ও বিক্রেতা বিপুল চন্দ্র বেপারী বলেছেন, করোনার পর ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমাদের অর্ডার একটু কম। তবুও আমাদের কাছে অর্ডার আছে।

প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে এক সময় বাঁশ-বেতের পণ্য তৈরির পেশা ছেড়েছেন বাঘার গ্রামের শতাধিক পরিবার। নতুন পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে আবারো এই পেশায় ফিরিয়ে আনার আশা করেন নতুন উদ্যোক্তারা।