রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন: আদালতের নির্দেশের পরও হয়নি মামলা

বরিশালের উজিরপুরে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার আসামি মিনতি বিশ্বাসকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে ২ জুলাই এই নির্দেশ দেয়া হলেও, এখনো মামলা দায়ের করেনি পুলিশ সুপার। 

তবে, ঘটনায় অভিযুক্ত উজিরপুর থানার অফিসার ইন চার্জ জিয়াউল আহসান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অফিসার ইন চার্জ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাইনুল ইসলামের পুলিশ লাইসেন্স ক্লোজড করেছেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান।

গত ২৬ জুন জামবাড়ি এলাকার মিনতি অধিকারীর বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে বাসুদেব চক্রবর্তীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন মৃতের ভাই বরুণ চক্রবর্তী উজিরপুর থানায় মিনতি অধিকারীকে নাম উল্লেখ ও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় পুলিশ মিনতিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়। 

৩০ জুন পুলিশের আবেদনে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তবে, তাকে রিমান্ডে নিয়ে যেন কোন ধরণের নির্যাতন করা না হয় সে নির্দেশ দেন আদালত। 

আরও পড়ুন: রিমান্ডে নিয়ে নারী আসামিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

রিমান্ড শেষে ২ জুলাই মিনতিকে আদালতে আনা হলে খুঁড়িয়ে হাটতে দেখে বিচারক নারী কনস্টেবল দিয়ে পরীক্ষা করান। মিনতির স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে বিচারক ২ জুলাই দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার নির্দেশ দেন। 

এ বিষয়ে রেঞ্জ ডিআইজি বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই একজন পুলিশ সুপারকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

এদিকে, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন ও যৌন হয়রানীর বিষয়ে আদালত মামলা নিতে নির্দেশ দেয়ার তিন দিন হতে চললেও মামলা না হওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিনতি অধিকারীর আইনজীবী মজিবর রহমান। প্রয়োজনে আদালত খুললে তিনি প্রতিকার চেয়ে মামলা করবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন: করোনা টিকা নিবন্ধনে বয়স কমালো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন এবং যৌন হয়রানীর বিষয়টি আইন বহির্ভূত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল বলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের দাবী করেন মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা।

মিনতি অধিকারীকে ৩০ জুন দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত ২ জুলাই সুচিকিৎসা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।  



একাত্তর/এসজে