অবশেষে সাঙ্গ হলো, ট্রেনে চেপে কক্সবাজার যাওয়ার অপেক্ষা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ে নেটওয়ার্কের ৪৮তম জেলা হিসেবে যুক্ত হয়েছে কক্সবাজার। অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এই রেল যোগাযোগ, বলছেন স্থানীয়রা। সেই সাথে বাড়বে কর্মসংস্থানও। আর এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার সকাল থেকে কক্সবাজারের ঝিলংজা চান্দের পাড়ার দিকে ছুটতে থাকেন হাজারো মানুষ। আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়াও পুরো এলাকা ভরে যায় মানুষে মানুষে। চলতি বছরে কক্সবাজারে এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর। এবার এসেছেন জেলাবাসীর দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে।
ট্রেনে সৈকতের শহর কক্সবাজারে যাওয়ার পথ তৈরি করে দেয়ায় সরকার প্রধানকে কৃতজ্ঞতা জানান সবাই। তার বলেন, সব মিলিয়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি এই অঞ্চলের সার্বিক অর্থনীতিতে আনবে নতুন প্রাণ। কক্সবাজার হয়ে উঠবে দেশের অর্থনীতির নতুন গেম চেঞ্জার।
ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছে, কক্সবাজারের লবণ, পান, সুপারি, মাছসহ নানা উৎপাদিত পণ্য ট্রেনে করে দেশের নানা জায়গায় পৌঁছাবে এবার। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন তারা। এর মাধ্যমে কক্সবাজারে বহুমাত্রিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলে বলেও মনে করছেন তারা।
পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতরা বললেন, পুরো দেশের সাথে কক্সবাজারের সংযুক্তিটা সহজ হলো রেলপথ হওয়ায়। ফলে পুরো দেশের পর্যটকরা কক্সবাজারে ভ্রমণে আসবেন সহজে ও কম খরচে। আগামী পহেলা ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ট্রেন বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করবে।
১০২ কিলোমিটারের এই রেলপথের ছোঁয়ায় সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারাসহ আশপাশের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কারণ, এ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনসহ মোট ৯টি স্টেশনের মাধ্যমে যুক্ত হবে এলাকাগুলো।