মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ইদ্রাকপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুনে দগ্ধরা হলেন- রিজভী আহামেদ (৩৫), তার মা সাহিদা খাতুন (৫৫), স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩১) ছেলে রাইয়ান আহামেদ (৩)।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ওই ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এসময় এলাকার মানুষ বাইরে বের হয়ে দেখেন, ভবনের পঞ্চম তলায় আগুন জ্বলছে। তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। পরে দগ্ধদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভবনটি নির্মাণকাজ কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে। ভবনের মোট ১৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১২টি ভাড়া হয়েছে। পাঁচ তলার ১২ নম্বর ফ্ল্যাটে পরিবারসহ ভাড়া থাকেন রিজভী আহমেদ।
রিজভী বলেন, আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম হঠাৎ দেখি আগুন। পরে সন্তানকে কোলে নিয়ে দ্রুত বের হতে হতে দগ্ধ হই। মা ছিলো রান্নাঘরে।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. আবু ইউসুফ বলেন, আমাদের ধারণা, কক্ষের সব দরজা-জানালা বন্ধ ছিলো। আগুন আবদ্ধ কক্ষ থেকে ব্যাপক শক্তি সঞ্চয় করে। পরিবারের কেউ যখন কোনো একটা দরজা খুলে, তখন কক্ষে অক্সিজেন প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এ কারণে ওই ফ্ল্যাটসহ সম্পূর্ণ ভবনের সব কটি কক্ষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, দগ্ধ কেউই শঙ্কামুক্ত নয়। তবে সাহিদা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার ছেলে রিজভী'র ১০ শতাংশ, তার স্ত্রী রোজিনা'র ১২ শতাংশ ও সন্তান রাইয়ান আহামেদ এর ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্তসহ ফেইজ বার্ন রয়েছে।