কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। উৎকন্ঠা আর আতঙ্কের মধ্যেই সময় পার হচ্ছে নদী পাড়ের অসংখ্য মানুষ। এমন সময় তাদের পাশে দাড়াঁবার যেন কেউ নেই। করোনা আতঙ্কের মাঝে এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা।
শুক্রবার (৯ জুলাই) থেকে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের আলীপুর ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভৈরববাড়ী এলাকায় হঠাৎ করেই ভাঙন দেখা দিয়েছে।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস.এম আনোয়ার হোসেন জানান, গত কয়েক দিন ধরেই ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এসব এলাকার লোকজন।
ভাঙনের ফলে প্রতিবছর বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। জেলার মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস.এম আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, এ বছরের বর্ষার শুরুতেই শুক্রবারের (৯ জুলাই) ভাঙনেই অন্তত ১৭টি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ভৈরববাড়ীও আলীপুরের শতাধিক বাড়ী আলীপুর মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাস ও মন্দিরসহ শত শত পাকা-আধা পাকা ঘরবাড়ি। মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালমা আজাদসহ স্থানীয়দের দাবী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থার।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গাইল সদরসহ যে যে এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে ওই সকল এলকায় অস্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কাজ করার অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি, অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে। অপরদিকে কালিহাতী উপজেলা গোহালিয়াবাড়ী এলকায় যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর মুখ পয়েন্টে পানি চলাচলের জন্য দুইপাশে ভাঙন প্রতিরোধে ব্লক ফেলার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান এই নির্বাহী প্রকৌশলী।
আরও পড়ুন: ঢাকার ৫ স্থানে করোনা ফিল্ড হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত
ভাঙনের খবর পেয়েই শুক্রবার বিকেলে কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা ভাঙ্গন কবলিত স্থান পরির্দশন করেন।
এদিকে প্রতিবছর টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড লোক দেখানো জিও ব্যাগ ফেললেও, তা কোনও কাজেই আসছে না। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন নদী পাড় ঘেষা বসবাসকরা মানুষ।
একাত্তর/আরবিএস