করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের করোনা ইউনিটে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের ৬৫ জন কর্মী। এসময় নিজেদের ২৯ জনও আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়।
২০২০ সালের ২১ মার্চ থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা। এতে করে পরিবার ছেড়ে চারটি ঈদ তাদের কাটল রোগীদের সাথে হাসপাতালে।
দেশে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর যখন অনেকক্ষেত্রেই আক্রান্তের কাছে তার পরিবারের সদস্যরা আসতো না, বাড়ি থেকে বের করে দিতো, হাসপাতালে ফেলে পালাতো, মৃতদেহ সৎকারের লোক ছিল না, তখন থেকেই কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের ৬৫ জন নেতাকর্মী মাঠে নামেন।
কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ হাসান চ্যালেঞ্জ এর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক এই দলটি এখন পর্যন্ত ১২টি মরদেহ দাফন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে শিফট করে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে করোনা রোগীদের সহায়তায় কাজ করছেন তারা।
করোনা পরীক্ষা করতে আসা অনেকেই জানেন না কি করতে হবে। এমন অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এই স্বেচ্ছাসেবকরা। রোগীর টিকিট কাটা, ডাক্তার দেখানো, প্রয়োজন হলে নমুনা নেওয়ার পাশাপাশি রোগীর মানসিক শক্তি যোগানোর কাজও করে যাচ্ছেন তারা।
চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত রোগীদেরও সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন তারা। অক্সিজেন দেয়া, খাবার ও ওষুধ খাওয়ানো, প্রয়োজনীয় অন্যান্য দেখভালসহ সবই করছেন এই স্বেচ্ছাসেবকরা। এমনকি হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীর প্রয়োজনেও দিচ্ছেন সাড়া।
কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ হাসান চ্যালেঞ্জ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে এবং আমাদের নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের নির্দেশনায় ঝাঁপিয়ে পড়েছি আমরা। যতদিন করোনা সংক্রমণ থাকবে ততদিন আমরা ঘরে ফিরে যাবোনা। একজন রোগী যখন সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরে তখন আমাদের মনে যে আনন্দ হয় তা হাজার ঈদের সমান।
তিনি আরও বলেন, ৬৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী শিফট করে করোনা ওয়ার্ডে রোগীদের সেবায় কাজ করছে। কেউ মারা গেলে তার পরিবার যদি অনীহা প্রকাশ করে তবে সেই লাশও আমরা দাফন করে দিই।
জানা যায়, সেবা দিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৬৫ জনের মধ্যে ২৯ জন কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে দুইজন করোনা আক্রান্ত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পূর্বে যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তারা সুস্থ হয়ে আবার ফিরে আসছেন স্বেচ্ছাসেবায়।
ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: আব্দুল মোমেন বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। এখানে প্রতিদিন প্রায় ২৫০-৩০০ করোনা রোগী ভর্তি থাকছে। এছাড়াও রয়েছে সাধারণ রোগী। ছাত্রলীগ যদি করোনা রোগীদের সেবায় এগিয়ে না আসতো তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একা এই চাপ সামলানো মুশকিল হতো।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের আয়েশা নামে এক রোগীর অভিভাবক বলেন, আমাদের রোগীর কাছে যেতে ভয় লাগে। যা কিছু প্রয়োজন সবই ছাত্রলীগের কর্মীরা করে দেয়। ওষুধ, খাবার যা লাগে ওদের কাছে দিলেই তা রোগীর কাছে পৌঁছে দেয়। ওরা যা করছে সেটা আমরা রোগীর নিকটজন হয়েও করছি না। তাই ওদেরকে অশেষ ধন্যবাদ।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা কুষ্টিয়া এখন করোনার হটস্পট। প্রতিদিন ২০০-২৫০ জন আক্রান্ত হচ্ছে এখানে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় করোনা আক্রান্ত ও করোনার উপসর্গ নিয়ে মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একাত্তর/আরএইচ