একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগল প্রায় পাইলট আসিমের মা

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা নিলুফা খানম পাগল প্রায়। আত্মীয়স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ক্ষণে ক্ষণে জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি।  

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান ইয়াক-১৩০ বিধ্বস্ত হয়। এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর তাতে আগুন ধরে যায়।

যুদ্ধবিমানের পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মো. সোহান হাসান খাঁন এবং স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ। এ সময় পাইলটরা বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে সক্ষম না হওয়ায় পরে দুই পাইলট প্যারাস্যুটের মাধ্যমে অবতরণ করেন। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে বোট ক্লাবের পাশে নদীতে পড়ে। 

এতে বিমানের পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান। 

নিহত আসীম জাওয়াদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামে। তবে তার বাবা-মা জেলা শহরের গোল্ডেন টাওয়ারে নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। তার বাবা আমান উল্লাহ একজন চিকিৎসক আর মা নিলুফার খানম সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন। 

আসিম জাওয়ানের ছয় বছরের একটি ছেলে ও দেড় বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আসিম চট্টগ্রাম বিমানবাহিনীর ঘাঁটি জহরুল হকের অফিসার্স আবাসিক এলাকার নীলিমাতে বসবাস করতেন।  

নিহত আসিম জাওয়ানের খালা পারভিন আক্তার জানান, আসিম জাওয়ান অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার মা এখন পাগল প্রায়। পরিবারটি এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা জানা নেই তার।