পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বন্যার কবলে সিলেট

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বন্যার কবলে সিলেটের চার উপজেলার নিচু এলাকা। এরইমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে ঠাঁই নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। প্রশাসন বলছে, বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করছে বিজিবি।

পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে ডুবে আছে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম। পানি ঢুকে পড়েছে গ্রামগুলোর বিভিন্ন প্রান্তে। 

বিপদসীমা অতিক্রম করেছে জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও ডাউকি নদীর পানি। জৈন্তাপুর ছাড়াও পানিতে ডুবে আছে গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট। 

বন্যা দুর্গত চারটি উপজেলায় স্থানীয়দের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে বিজিবি। তাদের আনা হচ্ছে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে। তবে সব হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যাদুর্গতরা। 

এদিকে, সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙা বাঁধ মেরামত ও বন্যা কবলিতদের উদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, বন্যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে। 

বিজিবি সিলেট সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষকে আমরা উদ্ধার করেছি। এখনও অনেকে বাড়ি ছেড়ে আসতে চাচ্ছেন না। তবে আমরা এ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবো।  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, সুরমা কুশিয়ারাসহ সব নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টি না থামলে পানি কমার সম্ভাবনা নেই।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড দিপক রঞ্জন দাশ- নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার প্রায় দুই মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও সারি নদীর পানি বিপদসীমার এক মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।   

বন্যাদুর্গতদের নিরাপদে রাখতে চার উপজেলায় মোট ৪৭০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।