ওয়াকফ সম্পত্তি জবরদখল, গ্রামবাসীর মানববন্ধন

হাইকোর্টের আদেশকে অমান্য করে ওয়াকফকৃত সম্পত্তিতে নতুন বাড়ী ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে সম্পত্তি জবরদখলের করার অভিযোগ উঠেছে আছেন আখদ্দছ আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ উঠেছে ৭৮ বছর ধরে মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা ও মসজিদ ওয়াকফকৃত সম্পত্তি ভোগ-দখল করে আসছেন। হঠাৎ করে এই সম্পত্তি মৌরশী সম্পত্তি দাবী করায় ক্ষোভে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছে গ্রামবাসী। 

শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে এলাকার তরুণ সমাজও নিজেদের ব্যানারে মানববন্ধনে যোগ দেয়। 

মাদ্রাসার গভনিং বডির সদস্য ও মসজিদ কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমানের পরিচালনায় এ সময় বক্তব্যে রাখেন মাদ্রাসার গভনিং বডির সহ-সভাপতি ও ইউপি সদস্য সাতির মিয়া, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জহির, সহ-সভাপতি হারুন মিয়া, মাদরাসার গভনিং বডির সদস্য আব্দুল মোহিত বাবলুসহ অনেকে।

গভনিং বডির সহ সভাপতি সাতির মিয়া অবৈধ দখলের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ভুমি দস্যু আকদ্দছ আলীর মূলবাড়ী জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বটুলি গ্রামে। সে আমাদের মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করা প্রায় ৩ একর ৩৭ শতাংশ সম্পতি অবৈধ দখলের চেষ্টায় লিপ্ত। ১৯৪৬ সালে কটু মিয়া, মজর উদ্দিন, আবজা বিবি এই তিনজন ওয়াকফে লিল্লাহ করে যান। দলিলে উল্লেখ করা হয়, এই দলিল পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন ও সংযোজন করা যাবে না। এই সম্পতির মালিকানা কখনো কেউ দাবী করতে পারবে না। অথচ আজ ভূমি দস্যু আকদ্দছ আলী এই সম্পতির স্বত্ব দাবী করছে । এছাড়া সে আমাদের এলাকার শান্তি শৃংখলা বিনষ্ট করে যাচ্ছে। এলাকার শান্তিপ্রিয় লোকদের ভয়ভীতি ও মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখাচ্ছে। এটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকার লোকজনদের ভয় ভিতি দেখাচ্ছে। এই ব্যাপারে আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্যকে আমরা তার বিষয়টি লিখিত ভাবে অবগত করেছি। 

এসময় গ্রামবাসী ওয়াকফ করা এই বাড়িসহ প্রায় ৩ একর ৩৭ শতাংশ সম্পত্তি উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।