বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনায় চার মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে চট্টড়্রাম নগরীর মুরাদপুর এলাকায় এই সংঘর্ষের সূচনা হলেও রেশ ছড়িয়ে পড়ে নগরীর বহদ্দারহাট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত। কয়েক কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় তিনটি মামলা চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় এবং একটি মামলা খুলশী থানায় করা হয়। বুধবারই এসব মামলা করা হয়। এখন পর্যন্ত ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচলাইশ থানার তিন মামলার মধ্যে দুইটির বাদী পুলিশ। হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দুইটি করা হয়।
এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা ছয় হাজার থেকে সাত হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলা করেন আহত এক ব্যক্তির মা। এ মামলায় এক থেকে দেড়শ’ মানুষকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এছাড়া খুলশী থানায় এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী শাহেদ আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে ৫০০-৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মারামারির ঘটনায় এ মামলাটি করা হয়।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় নগরীর মুরাদপুর এলাকায় অবস্থান নেন কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে।
চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ ক’জন আহত হয়েছেন। দুই পক্ষে দুই দফায় সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা পিছু হটে গেলে মুরাদপুরে অবস্থান নেয় কোটা আন্দোলনকারীরা। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েন।
এ সময়, মুরাদনগরে ছাত্রদল ও শিবির কর্মীরা একটি বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ফেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছদ্মবেশে ঢুকে পড়ে এ সহিংসতা চালায় ছাত্রদল ও শিবির কর্মীরা। এ ঘটনায় কমপক্ষে দুইজন ছাত্রলীগ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে, তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে, তাদেরকে দু’জনকেই আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনা কয়েকটি ভিডিও চিত্র এরিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ছাত্রলীগ কর্মীদের পিটিয়ে ছাদ থেকে ফেলা দেয়া হচ্ছে।