কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে নিহত হয়েছেন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করের বেতকা গ্রামে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাড়িতে আনা হয় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ারের মরদেহ। পরে জানাজার নামাজ শেষে সামরিক মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
নিহত সেনা কর্মকর্তার মা ও স্বজনরা জানান, পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ২০২২ সালে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন তানজিম ছারোয়ার।
সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পায় সেনাবাহিনী। পরে দ্রুত চকরিয়া ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযানে যায়। আনুমানিক ৪টার দিকে মাইজপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করার সময় ৭ থেকে ৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল সেনা টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার ডাকাত দলের কয়েকজনকে তাড়া করেন। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ারের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হন তিনি। এতে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে এই সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট নির্জনের লাশ বহনকারী সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার জেলা সদর হেলিপ্যাডে এসে অবতরণ করে। সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নির্জনের লাশ গ্রহণ করেন। নিহতের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
হেলিকপ্টার থেকে লাশ নামিয়ে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে তুলে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করের বেতকায় তার নিজ গ্রামে। বাড়িতে লাশ পৌঁছার পর সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। ভাইকে হারিয়ে পাগলপ্রায় একমাত্র বোন সূচি। যারা নির্জনকে এভাবে হত্যা করেছে, তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন সবাই।
মঙ্গলবার বাদ আসর টাঙ্গাইলের বোয়ালী মাদরাসা মাঠে নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিপুলসংখ্যক লোক জানাজায় অংশ নেন।
মেধাবী এই সেনা কর্মকর্তা টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পরে পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি হতে ২০২২ সালের ৮ জুন আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন।