বিগত ফ্যাসিবাদের সময় উত্তরবঙ্গের সাথে হওয়া বৈষম্য দূর করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
এ উপদেষ্টা বলেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদের সময় উত্তরবঙ্গের সাথে যে বৈষম্য হয়েছে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই বৈষম্য ঘোঁচাতে এবং সারাদেশে অন্যান্য জায়গায় যেভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম হয়েছে ঠিক একইভাবে যাতে রংপুর, রাজশাহী বিভাগ তথা উত্তরবঙ্গেও সেভাবে যাতে উন্নয়ন হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।
বুধবার বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, উত্তরাঞ্চল বাংলাদেশের অত্যন্ত উর্বর কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী একটি অঞ্চল। আমি পরিসংখ্যানগুলো দেখছিলাম বিভিন্ন উপজেলার। এই অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গাতে প্রায় উৎপাদনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উদ্বৃত্ত থাকে। যেটা দিয়ে বাংলাদেশের যে অঞ্চলে ঘাটতি রয়েছে সেখানকার মানুষ কৃষি পণ্য খাওয়ার জন্য পেয়ে থাকে। সেই জায়গা থেকে কৃষিভিত্তিক শিল্প বিস্তারের অনেক সুযোগ আছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার বন্ধ থাকা বিভিন্ন সুগার মিলগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টেক্সটাইল মিলগুলো চালুর বিষয়ে আমি শিল্প উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলবো।
উন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক কোনো বৈষম্য আর থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের যে চলমান প্রকল্পগুলো আছে আমি লক্ষ্য করেছি; সেই প্রকল্পগুলোতে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ অতিমাত্রায় বেশি এবং কিছু অঞ্চলে এলাকাভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে। আমরা সেগুলো পুনর্বণ্টন করছি এবং উন্নয়ন যেন সুষমভাবে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে যায়। যে অঞ্চলগুলো বিশেষভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছে এখানে যেন বিশেষ পরিচর্যার উন্নয়ন কার্যক্রম করা যায় এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আপনারা খুব দ্রুতই এর দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পারবেন।
শিল্পের বিকাশ ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয় মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, শিল্পের বিকাশ ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবাহ এবং উন্নয়ন অসম্ভব। সুতরাং উত্তরবঙ্গে যেন শিল্পের বিকাশ করা সম্ভব হয় এজন্য উত্তরবঙ্গের যে স্থলবন্দর আছে সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনা করবো।
তিস্তার সুখবর জানিয়ে উপদেষ্টা আসিফ বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির যে অভাব এবং বন্যার মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যাওয়া এটা উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে আপনাদের সুখবর দিয়ে যাই; পানিসম্পদ উপদেষ্টা আমি এবং আমরা আবারও আগামী বছরের শুরুর দিকে উত্তরবঙ্গে আসবো।
তিনি আরও বলেন, তিস্তার পানি সমস্যা কীভাবে নিরসন করা যায়, একটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কীভাবে করা যায় তার জন্য গণশুনানির আয়োজন করা হবে। আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষের কথা শুনবো। তিস্তা নিয়ে আপনাদের সমস্যাগুলো শুনে তার প্রেক্ষিতে বৃহৎ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এবং আমি আশাবাদী এর মাধ্যমে আপনাদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান হবে।