ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পুলিশের হাত থেকে দুর্বৃত্তরা এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দিনগত রাতে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ওই যুবকের নাম ফারুক হোসেন বাকু (৪০)। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাড়ে সাতরশি গ্রামের বাসিন্দা।
সদরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফারুক হোসেন বাকু ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ওরফে নিকসন চৌধুরীর ডান হাত বলে পরিচিত। তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আমলে জবরদখল, চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবারের সাথে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন মহল থেকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ছিলো তার নিত্যদিনের কাজ।
সদরপুর থানা পুলিশ জানায়, ফারুক হোসেন বাকু পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা থানার দুর্বৃত্তকারী লোকজন নিয়ে সদরপুর থানার বিভিন্ন গ্রামে নিজের শক্তি জাহির করার জন্য প্রতিনিয়ত এলাকায় মহড়া দিয়ে আসছিলো। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন এসআই মো: রাছেল শেখ।
বাকুকে আটকের পর থেকেই তাকে মুক্ত করতে সদরপুর উপজেলার স্থানীয় বিএনপির নেতা মো: বাহালুল মাতুব্বরের নেতৃত্বে একটি অংশ থানায় ছুটে আসেন। রাত সাড়ে সাতটার দিকে কাকতালীয়ভাবে আটক বাকু অসুস্থতার কথা জানালে স্থানীয় বিএনপির নেতা বাহালুল মাদবর তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। রাত আটটার দিকে থানার এসআই হাদীউজ্জামান ও কনস্টেবল বাকুকে চিকিৎসার জন্য সদরপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, আসামিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ডা: মাইদুল হাসান শাওন তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন। হাসপাতাল থেকে বের হাওয়ার পরপরই বাকুর লোকজন পুলিশের হাত থেকে তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে একটি প্রাইভেট কারে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে এসআই হাদীউজ্জামান বলেন, আমি ও একজন কনস্টেবল ছিলাম। বাকুর প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন লোক ছিলো। আমার কাছ থেকে তারা তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোতালেব হোসেন জানান, পুলিশের কাছ থেকে আটক ফারুক হোসেন বাকুকে যারা ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। তাকে আটক করতে থানা পুলিশের অভিযান চলছে।
এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাহালুল মাতুব্বর জানান, বাকুর ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমি তাকে ছাড়াতে কেনো আসবো? সে আমাকে আগে থেকেই গালাগালি করে আসছে। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন বাহালুল মাতুব্বর।