বগুড়ায় সালিস বৈঠকে মারপিটে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

বগুড়ায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সালিস বৈঠকে মারপিটের অভিযোগে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২০ আগস্ট) বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী মধ্যপাড়ায় সালিস বৈঠকে এ মারপিটের এ ঘটনা ঘটে। পরে রোববার (২২ আগস্ট) সকালে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়। তড়িঘড়ি ওই যুবকের লাশ দাফনকালে পুলিশ অভিযোগ পেয়ে একজনকে আটক করেছে।

মৃত ওই যুবকের নাম আব্দুল মমিন (২৫)। তিনি ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ার রেজাউলের ছেলে। মমিন পেশায় হোটেল শ্রমিক ছিলেন।

আটক ব্যক্তির নাম তৌহিদুল ইসলাম বিটু। তিনি বগুড়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। 

নিহতের স্ত্রী বর্ষা ও শাশুড়ি জানান, শুক্রবার স্থানীয় এক রিকশা চালকের শিশু কন্যাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পৌর কাউন্সিলর মমিনকে ফুলবাড়ি ফাউন্ডেশন নামের একটি ক্লাব ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে সালিস বৈঠকের নামে তাকে কাঠের বাটাম দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। পরে মমিনের বাবাকে ডেকে ছেলেকে তার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। 

মমিন তার স্ত্রীকে জানিয়েছিল, রিকশা চালক জুয়েলের ছোট শিশু কন্যাকে সিগারেট আনতে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে পৌর কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম বিটু ক্লাব ঘরে ডেকে নিয়ে তাকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে।

রবিবার (২২ আগস্ট) সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে মমিনকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

আরও পড়ুন: করোনা ভাইরাস: রামেকের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় ১০ মৃত্যু

পরে পৌর কাউন্সিলর বিষয়টি জানতে পেরে মরদেহ নিজ উদ্যোগে মমিনের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং তার খরচে দাফনের প্রস্তুতি নেন। বিকেলে ঘটনাটি সদর থানা পুলিশ জানতে পেরে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এসময় ওই পৌর কাউন্সিলরকে থানায় নিয়ে এসে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। 

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে না। কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, একারণে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিহতের পরিবার থেকে কোনো মামলা এখনও থানায় দায়ের হয়নি।

একাত্তর/এসি